শিরোনাম

অভিবাসন প্রক্রিয়া সংস্কারে রামরুর প্রস্তাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
অভিবাসন প্রক্রিয়া সংস্কারে রামরুর প্রস্তাবনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকী ও অন্যান্য অতিথি। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কার চায় রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু)। এই দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার  ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকী।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

নীতি সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে– বিএমইটিকে একাধিক পরিদপ্তরবিশিষ্ট একটি অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করা; অভিবাসন পরিচালনা সংক্রান্ত জ্ঞান সংরক্ষণ ও সেবার মানোন্নয়নে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য পৃথক ক্যাডার সার্ভিস চালু করা; ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিলের অর্থ শুধু অভিবাসীদের প্রত্যক্ষ সেবাদানে ব্যবহার করা এবং জাতীয় বাজেটে বোর্ড পরিচালনার জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখা।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের পূর্ববর্তী ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা; স্বার্থের সংঘাত এড়াতে সংসদ সদস্য থাকাকালীন তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা এবং অভিবাসন খাতে জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশ অথবা বার্ষিক রেমিট্যান্সের ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

প্রশাসনিক সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে– জাতীয় শুমারিতে অভিবাসীদের তথ্য সংযুক্ত করার মাধ্যমে অভিবাসন সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা; সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের অতিরিক্ত টাকা গ্রহণকারীদের শনাক্ত করার পদ্ধতি তৈরি করা ও প্রমাণিতদের অতিরিক্ত গ্রহণের ৫ গুণ জরিমানা করা; নারী শ্রমিকের নিরাপদ অভিবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, বিদেশে নারী অভিবাসীদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা। দক্ষ অভিবাসন বাড়াতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নার্সিং কোর্স খোলা বাধ্যতামূলক করা।

তাকামুল দক্ষতা পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দালালনির্ভর অতিরিক্ত ব্যয় বন্ধে পরীক্ষার ফি, স্লট, ফলাফল ও সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ট্র্যাকযোগ্য করা। নির্ধারিত ফি-এর বাইরে অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও তাকামুল-এর ফি ডলারের পরিবর্তে বাংলাদেশি টাকায় দেয়ার ব্যবস্থা করা এবং টিটিসির প্রশিক্ষণের গুণগত মান, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ট্রেইনার নিয়োগ ও রেভিনিউ বাজেট বৃদ্ধি করে দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মীর অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো।

প্রস্তাবনায় আরো রয়েছে– উন্নত বিশ্ব থেকে লেবার অ্যাটাশেদের ফিরিয়ে এনে স্বল্পমেয়াদি অভিবাসীদের দেশে একাধিক লেবার অ্যাটাশে নিয়োগ করা; লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কমিয়ে আনা; পরিবারের সদস্যদের একাধিক লাইন্সেন্স থাকলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয়গ্রহণকারীদের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা।

সংবাদ সম্মেলনে ড. তাসনীম সিদ্দিকী একটি জরিপ প্রতিবেদন পাঠ করেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন পুরুষ ও নারী অভিবাসী কাজের উদ্দেশে বিদেশে গেছেন। ২০২৪ সালে নারী-পুরুষ অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১১ হাজার ৯৬৯ জন। অর্থাৎ, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফটোগ্রাফার ও রাইটার ড. শহীদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের এসোসিয়েট অধ্যাপক মো. রাশেদ আলম, রামরুর সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার মো. পারভেজ আলম, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মেরিনা সুলতানাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

/জেএইচ/