শিরোনাম

মোস্তাফিজকে দিয়ে শুরু, শেষ সিদ্ধান্ত কী হবে

সিটিজেন-স্পোর্টস-ডেস্ক
মোস্তাফিজকে দিয়ে শুরু, শেষ সিদ্ধান্ত কী হবে
মোস্তাফিজকে দিয়ে শুরু, শেষটা কী হবে (ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স)

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের খেলাগুলো ভারতের মাটিতে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ।

শেষ পর্যন্ত নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে বাংলাদেশ নাকি আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। কী হবে তা জানা যাবে ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেলে। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে রাজধানীর একটি হোটেলে বৈঠকে বসছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ বৈঠকের পরই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ দলের ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তের শুরুটা হয়েছিল মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে।

৩ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশি ক্রিকেটার নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন। যার প্রতিক্রিয়ায় বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেয়। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের অনুরোধ করেন।

৪ জানুয়ারি ২০২৬

পরদিন আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না; বিসিবি ম্যাচ অন্য দেশে সরানোর অনুরোধ জানায় আইসিসিকে।

৫ জানুয়ারি

মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়।

৬ জানুয়ারি ২০২৬

আইসিসির সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করে বিসিবি। ক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়, বৈঠকে আইসিসি বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানো সম্ভব নয়।

৭ জানুয়ারি ২০২৬

ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, দেশের মর্যাদার প্রশ্নে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা প্রশ্নে আপস করে ভারতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ।

৮ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আইসিসিকে দ্বিতীয়বার ইমেইল করে বিসিবি।

১২ জানুয়ারি ২০২৬

ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, আইসিসির নিরাপত্তা দল ভারতে মোস্তাফিজসহ বাংলাদেশ দলের জন্য তিনটি বড় ঝুঁকির কথা বলেছে। সেই তিনটি পয়েন্ট ছিল প্রথমত, বাংলাদেশ দলে যদি মোস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। উপদেষ্টা আবারও ভারতে না যাওয়ার অনড় অবস্থানের কথা বলেন।

১৩ জানুয়ারি ২০২৬

বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে আয়োজনের জন্য আইসিসিকে আবার অনুরোধ করা হয়েছে।

১৭ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকায় আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিসিবি আবারও বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। গণমাধ্যমে জানা যায়, ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।

১৮ জানুয়ারি ২০২৬

পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানায়, বাংলাদেশের দাবি পূরণ না হলে বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে পিসিবি।

১৯ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ না খেললে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার খবর আসে এবং এটাও শোনা যায়, আইসিসি বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

২০ জানুয়ারি ২০২৬

ক্রীড়া উপদেষ্টা আবারও জানিয়ে দেন, কোনো ‘অযৌক্তিক চাপে’ পড়ে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যাবে না।

২১ জানুয়ারি ২০২৬

আইসিসি বোর্ড সভায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বিসিবিকে ভারতে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে এক দিন সময় দেওয়া হয়। আইসিসির সভায় ভোটাভুটি হয়। সেখানে বাংলাদেশ হেরে যায়। পাকিস্তান ছাড়া আর কেউ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়নি।

/টিই/