সুতোয় ঝুলছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা, কী হতে যাচ্ছে

সুতোয় ঝুলছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা, কী হতে যাচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইপিএল ২০২৬ এর জন্য নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপর বাংলাদেশি ক্রিকেটার নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রথমে আন্দোলন করে ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন। পরবর্তীতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে বাদ দেওয়া হয় মোস্তাফিজকে। বাংলাদেশি এই বাঁ-হাতি পেসারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কারণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত। সেই থেকে শুরু ঘটনার। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয় আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের ভারতে খেলতে পাঠাবে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে বলেছে, লিটন-মোস্তাফিজদের ম্যাচগুলো বিশ্বকাপের সহআয়োজক শ্রীলঙ্কায় দেওয়ার জন্য। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে গেল দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টি ঝুলতে অনিশ্চয়তার সুতোয়।
গেল ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান ক্রিকেটারদের নিরাপত্তায় কোন আপস নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমরা বিশ্বকাপে খেলতে চাই। কিন্তু আমাদের জাতির অবমাননার বিনিময়ে, আমাদের ক্রিকেটার এবং দর্শক, আমাদের সাংবাদিক, তাদের নিরপত্তার বিনিময়ে, তাদের মর্যাদার বিনিময়ে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই না।’ বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের অধিকার আদায়ে আমরা লড়াই করে যাবো। এর আগে অনেকগুলো বিশ্বকাপ খেলেছি, কখনো আমরা এমন কথা বলিনি। এবার যৌক্তিক কারণ আছে বলেই বলেছি। ভারত একজন খেলোয়াড়কে নিরাপত্তা দিতে পারছে না, সেখানে পুরো ক্রিকেট টিম ও সংশ্লিষ্টদের কীভাবে তারা নিরাপত্তা দেবেন- সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।’
সেই থেকে বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে অনড়। এরই মধ্যে ১২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল জানান, আইসিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি জিনিস হলে বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে। প্রথমত, বাংলাদেশ দলে যদি মোস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। আর তৃতীয়ত, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।’ তবে পরবর্তীতে বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয় আসিফ নজরুলের বক্তব্য আসিসির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়।
তাতে তথ্য লুকোচুরির বিষয়টি সামনে চলে আসে। তবে আইসিসিকে দুই দফা চিঠি দেয় বিসিবি। দ্বিতীয়বারের চিঠির পর বিসিবি জানায়, তারা প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে আইসিসিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছে যে, কেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ভারতে খেলা ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশি সমর্থক এবং সাংবাদিক হিসেবে ভারতে খেলা কাভার করতে যাওয়া কেন নিরাপদ নয় তাও জানিয়েছে আইসিসিকে। তবে ইমেইলের মাধ্যমে বিসিবি ও আইসিসির সমঝোতা হয়নি।
১৫ জানুয়ারি আবারও আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে না খেলার বিষয়ে অনড়। গেল ১৭ জানুয়ারি আইসিসির প্রতিনিধি ঢাকায় আসেন। মিটিং হয় আইসিসি প্রতিনিধি ও বিসিবি কর্মকর্তাদের মধ্যে। তবে সেই বৈঠকের আগে সংবাদমাধ্যমে খবর হয় ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ গ্রুপ বদল হতে পারে। গ্রুপ পর্বে আইরিশদের সব ম্যাচ আগে থেকেই শ্রীলঙ্কাতে নির্ধারিত। তবে ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে গ্রুপ বদলে আগ্রহী নয় আইরিশরা। আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইসিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কোন কথাই হয়নি আয়ারল্যান্ডের।
সবশেষ ক্রিকইনফো তাদের এক রিপোর্টে জানায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে ২১ জানুয়ারির মধ্যে। খবরটি ছিল এমন-বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে কি না, সেটা আগামী বুধবারের মধ্যে আইসিসিকে জানাতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। খবরটিতে আরও লেখা হয়েছে, আইসিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না গেলে সেই জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হবে। তবে বিসিবি এমন খবর নাকচ করে দিয়েছে। জানিয়েছে আইসিসি থেকে এমন কিছু বলা হয়নি।
এদিকে মোস্তাফিজকে আইপিএল দলে নিয়ে আবার বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কলকাতাতে তৈরী হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনায়ও হয়। সেখানে দেখা গেছে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আসার বিষয়টিও। কলকাতার 'এই সময়' পত্রিকার ক্রীড়া সাংবাদিক ও কলকাতা স্পোটর্স জার্নালিস্টস ক্লাবের সচিব অর্ঘ্য ব্যানার্জী বলেন, নিলামের আগেই যদি বিসিসিআই ঘোষণা করতো যে বাংলাদেশি প্লেয়ারদের খেলানো যাবে না, তাহলে তো ব্যাপারটা এতদূর গড়াত না।
আগে প্রশ্ন ছিল এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে কি না। এখন প্রশ্নটা হয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ থাকবে কি না! সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত আইসিসি থেকে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং বাংলাদেশ কী প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটি দেখার।

আইপিএল ২০২৬ এর জন্য নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপর বাংলাদেশি ক্রিকেটার নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রথমে আন্দোলন করে ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন। পরবর্তীতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে বাদ দেওয়া হয় মোস্তাফিজকে। বাংলাদেশি এই বাঁ-হাতি পেসারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কারণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত। সেই থেকে শুরু ঘটনার। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয় আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের ভারতে খেলতে পাঠাবে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে বলেছে, লিটন-মোস্তাফিজদের ম্যাচগুলো বিশ্বকাপের সহআয়োজক শ্রীলঙ্কায় দেওয়ার জন্য। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে গেল দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টি ঝুলতে অনিশ্চয়তার সুতোয়।
গেল ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান ক্রিকেটারদের নিরাপত্তায় কোন আপস নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমরা বিশ্বকাপে খেলতে চাই। কিন্তু আমাদের জাতির অবমাননার বিনিময়ে, আমাদের ক্রিকেটার এবং দর্শক, আমাদের সাংবাদিক, তাদের নিরপত্তার বিনিময়ে, তাদের মর্যাদার বিনিময়ে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই না।’ বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের অধিকার আদায়ে আমরা লড়াই করে যাবো। এর আগে অনেকগুলো বিশ্বকাপ খেলেছি, কখনো আমরা এমন কথা বলিনি। এবার যৌক্তিক কারণ আছে বলেই বলেছি। ভারত একজন খেলোয়াড়কে নিরাপত্তা দিতে পারছে না, সেখানে পুরো ক্রিকেট টিম ও সংশ্লিষ্টদের কীভাবে তারা নিরাপত্তা দেবেন- সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।’
সেই থেকে বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে অনড়। এরই মধ্যে ১২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল জানান, আইসিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি জিনিস হলে বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে। প্রথমত, বাংলাদেশ দলে যদি মোস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। আর তৃতীয়ত, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।’ তবে পরবর্তীতে বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয় আসিফ নজরুলের বক্তব্য আসিসির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়।
তাতে তথ্য লুকোচুরির বিষয়টি সামনে চলে আসে। তবে আইসিসিকে দুই দফা চিঠি দেয় বিসিবি। দ্বিতীয়বারের চিঠির পর বিসিবি জানায়, তারা প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে আইসিসিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছে যে, কেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ভারতে খেলা ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশি সমর্থক এবং সাংবাদিক হিসেবে ভারতে খেলা কাভার করতে যাওয়া কেন নিরাপদ নয় তাও জানিয়েছে আইসিসিকে। তবে ইমেইলের মাধ্যমে বিসিবি ও আইসিসির সমঝোতা হয়নি।
১৫ জানুয়ারি আবারও আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে না খেলার বিষয়ে অনড়। গেল ১৭ জানুয়ারি আইসিসির প্রতিনিধি ঢাকায় আসেন। মিটিং হয় আইসিসি প্রতিনিধি ও বিসিবি কর্মকর্তাদের মধ্যে। তবে সেই বৈঠকের আগে সংবাদমাধ্যমে খবর হয় ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ গ্রুপ বদল হতে পারে। গ্রুপ পর্বে আইরিশদের সব ম্যাচ আগে থেকেই শ্রীলঙ্কাতে নির্ধারিত। তবে ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে গ্রুপ বদলে আগ্রহী নয় আইরিশরা। আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইসিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কোন কথাই হয়নি আয়ারল্যান্ডের।
সবশেষ ক্রিকইনফো তাদের এক রিপোর্টে জানায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে ২১ জানুয়ারির মধ্যে। খবরটি ছিল এমন-বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে কি না, সেটা আগামী বুধবারের মধ্যে আইসিসিকে জানাতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। খবরটিতে আরও লেখা হয়েছে, আইসিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না গেলে সেই জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হবে। তবে বিসিবি এমন খবর নাকচ করে দিয়েছে। জানিয়েছে আইসিসি থেকে এমন কিছু বলা হয়নি।
এদিকে মোস্তাফিজকে আইপিএল দলে নিয়ে আবার বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কলকাতাতে তৈরী হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনায়ও হয়। সেখানে দেখা গেছে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আসার বিষয়টিও। কলকাতার 'এই সময়' পত্রিকার ক্রীড়া সাংবাদিক ও কলকাতা স্পোটর্স জার্নালিস্টস ক্লাবের সচিব অর্ঘ্য ব্যানার্জী বলেন, নিলামের আগেই যদি বিসিসিআই ঘোষণা করতো যে বাংলাদেশি প্লেয়ারদের খেলানো যাবে না, তাহলে তো ব্যাপারটা এতদূর গড়াত না।
আগে প্রশ্ন ছিল এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে কি না। এখন প্রশ্নটা হয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ থাকবে কি না! সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত আইসিসি থেকে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং বাংলাদেশ কী প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটি দেখার।

সুতোয় ঝুলছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা, কী হতে যাচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইপিএল ২০২৬ এর জন্য নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপর বাংলাদেশি ক্রিকেটার নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রথমে আন্দোলন করে ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন। পরবর্তীতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে বাদ দেওয়া হয় মোস্তাফিজকে। বাংলাদেশি এই বাঁ-হাতি পেসারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কারণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত। সেই থেকে শুরু ঘটনার। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয় আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের ভারতে খেলতে পাঠাবে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে বলেছে, লিটন-মোস্তাফিজদের ম্যাচগুলো বিশ্বকাপের সহআয়োজক শ্রীলঙ্কায় দেওয়ার জন্য। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে গেল দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টি ঝুলতে অনিশ্চয়তার সুতোয়।
গেল ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান ক্রিকেটারদের নিরাপত্তায় কোন আপস নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমরা বিশ্বকাপে খেলতে চাই। কিন্তু আমাদের জাতির অবমাননার বিনিময়ে, আমাদের ক্রিকেটার এবং দর্শক, আমাদের সাংবাদিক, তাদের নিরপত্তার বিনিময়ে, তাদের মর্যাদার বিনিময়ে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই না।’ বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের অধিকার আদায়ে আমরা লড়াই করে যাবো। এর আগে অনেকগুলো বিশ্বকাপ খেলেছি, কখনো আমরা এমন কথা বলিনি। এবার যৌক্তিক কারণ আছে বলেই বলেছি। ভারত একজন খেলোয়াড়কে নিরাপত্তা দিতে পারছে না, সেখানে পুরো ক্রিকেট টিম ও সংশ্লিষ্টদের কীভাবে তারা নিরাপত্তা দেবেন- সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।’
সেই থেকে বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে অনড়। এরই মধ্যে ১২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল জানান, আইসিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি জিনিস হলে বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে। প্রথমত, বাংলাদেশ দলে যদি মোস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। আর তৃতীয়ত, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।’ তবে পরবর্তীতে বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয় আসিফ নজরুলের বক্তব্য আসিসির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়।
তাতে তথ্য লুকোচুরির বিষয়টি সামনে চলে আসে। তবে আইসিসিকে দুই দফা চিঠি দেয় বিসিবি। দ্বিতীয়বারের চিঠির পর বিসিবি জানায়, তারা প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে আইসিসিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছে যে, কেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ভারতে খেলা ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশি সমর্থক এবং সাংবাদিক হিসেবে ভারতে খেলা কাভার করতে যাওয়া কেন নিরাপদ নয় তাও জানিয়েছে আইসিসিকে। তবে ইমেইলের মাধ্যমে বিসিবি ও আইসিসির সমঝোতা হয়নি।
১৫ জানুয়ারি আবারও আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে না খেলার বিষয়ে অনড়। গেল ১৭ জানুয়ারি আইসিসির প্রতিনিধি ঢাকায় আসেন। মিটিং হয় আইসিসি প্রতিনিধি ও বিসিবি কর্মকর্তাদের মধ্যে। তবে সেই বৈঠকের আগে সংবাদমাধ্যমে খবর হয় ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ গ্রুপ বদল হতে পারে। গ্রুপ পর্বে আইরিশদের সব ম্যাচ আগে থেকেই শ্রীলঙ্কাতে নির্ধারিত। তবে ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে গ্রুপ বদলে আগ্রহী নয় আইরিশরা। আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইসিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কোন কথাই হয়নি আয়ারল্যান্ডের।
সবশেষ ক্রিকইনফো তাদের এক রিপোর্টে জানায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে ২১ জানুয়ারির মধ্যে। খবরটি ছিল এমন-বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে কি না, সেটা আগামী বুধবারের মধ্যে আইসিসিকে জানাতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। খবরটিতে আরও লেখা হয়েছে, আইসিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না গেলে সেই জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হবে। তবে বিসিবি এমন খবর নাকচ করে দিয়েছে। জানিয়েছে আইসিসি থেকে এমন কিছু বলা হয়নি।
এদিকে মোস্তাফিজকে আইপিএল দলে নিয়ে আবার বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কলকাতাতে তৈরী হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনায়ও হয়। সেখানে দেখা গেছে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আসার বিষয়টিও। কলকাতার 'এই সময়' পত্রিকার ক্রীড়া সাংবাদিক ও কলকাতা স্পোটর্স জার্নালিস্টস ক্লাবের সচিব অর্ঘ্য ব্যানার্জী বলেন, নিলামের আগেই যদি বিসিসিআই ঘোষণা করতো যে বাংলাদেশি প্লেয়ারদের খেলানো যাবে না, তাহলে তো ব্যাপারটা এতদূর গড়াত না।
আগে প্রশ্ন ছিল এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে কি না। এখন প্রশ্নটা হয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ থাকবে কি না! সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত আইসিসি থেকে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং বাংলাদেশ কী প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটি দেখার।




