শিরোনাম

আইসিসিকে আবারও চিঠি, স্বাধীন কমিটির হস্তক্ষেপ চায় বিসিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আইসিসিকে আবারও চিঠি, স্বাধীন কমিটির হস্তক্ষেপ চায় বিসিবি
ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে না, এটাই এখন চূড়ান্ত। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে—টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতে গিয়েই খেলতে হবে। বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত জানতে বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক এ সংস্থাটি। তবে এ সময়েও বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত বদল হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে আইসিসি ভেন্যু না বদলালে বাংলাদেশ খেলবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপের দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সভার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোনো রকম সুযোগ নেই।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘নিরাপত্তার ইস্যুতে আমাদের কনভিন্স করার জন্য আইসিসি কোনো চেষ্টাই করেনি। আইসিসি আসল ইস্যু বাদ দিয়ে তার স্ট্যান্ডার্ড সিকিউরিটি প্রসিডিউর নিয়ে আলোচনা করেছে। যে সমস্যা নিয়ে এই আলোচনা, সেই বিষয়েই কোনো স্ট্যান্ড নেয়নি আইসিসি। এমনকি ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও আমাদেরকে কনভিন্স করার কোনো চেষ্টা করেনি। ফলে আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আইসিসি নামে তো কোনো দেশ নেই। তাদের আশ্বাসে আমরা কেন একটি দেশে খেলতে যাব। যেখানে উগ্রবাদীদের কাছে মাথা নত করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আমাদের দেশের একজন সেরা ক্রিকেটারকে ভারত থেকে বের করে দিতে বলেছে। সেখানে কী এমন পরিবর্তন হয়েছে যে, আমরা সেখানে খেলতে যাব। আমরা কিভাবে ভাববো যে, সেখানে উগ্রবাদীদের আস্ফালন ঘটবে না?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, আইসিসি থেকে কোনো সুবিচার পাইনি। আমরা এখনও আশা করছি, আইসিসি সুবিচার করবে। অন্য দেশে গিয়ে বিশ্বকাপে খেলার এমন অনেক নজির আছে। আমরা আশা করবো, আইসিসি আমাদেরকে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে খেলার সুযোগ করে দেবে। সেই আশাবাদ নিয়ে এখনও অপেক্ষা করছি।’

অর্থাৎ আইসিসি ভেন্যু না বদলানোর সিদ্ধান্ত জানানোর পরও বাংলাদেশ ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে না যাওয়ার অবস্থানে অটল আছে।

এদিকে, নতুন করে নিজেদের অটল অবস্থানের কথা জানিয়ে গতকাল আবারও আইসিসি বরাবর ই-মেইল করেছে বিসিবি। তাতে আইসিসিকে অনুরোধ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবির বিষয়টি যেন আইসিসির স্বাধীন ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির কাছে পাঠানো হয়। আইসিসির কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক উঠলে স্বাধীন আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি সেটির সুরাহা করে।

বিসিবির আশা করছে, তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিটি ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির কাছে পাঠাবে। তবে পরশু ঘোষণার পর এ বিষয়ে আইসিসি আর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। অন্যদিকে শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে নীরব রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, আইসিসি শেষ পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মানলে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে না। টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ছিল ভারতের দুই শহর কলকাতা ও মুম্বাইয়ে।

সরকার কোন পরিস্থিতিতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাখ্যা করে বলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ক্রিকেটাররাও বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আলোচনার বিস্তারিত তিনি সংবাদমাধ্যমে না জানালেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্রিকেটাররা সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেননি। সভায় মতামত জানতে চাইলে তারা বলেন, খেলোয়াড় হিসেবে খেলাটাই তাদের কাজ। তবে তাদের অভিভাবক সরকার ও বিসিবি। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে, ক্রিকেটাররা সেটাকেই সমর্থন করবেন।

উল্লেখ্য, কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ দল ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বলে জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তে এখনও অটল রয়েছে।

এদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম গতকাল বলেছেন, বিশ্বকাপ খেলতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। তবে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের পক্ষে তারা। এ লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিটি কনফ্লিক্ট রেজোল্যুশন কমিটির কাছে পাঠানোর অনুরোধ তারই অংশ।

/জেএইচ/