শিরোনাম

অনেক এলাকায় চুলাই জ্বলেনি

অনেক এলাকায় চুলাই জ্বলেনি
রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট । ছবি: সিটিজেন জার্নাল গ্রাফিক্স

‘আজ কোনো চুলাই জ্বলেনি। গতকাল যা রান্না করেছিলাম তা খেয়ে কোনোমতে প্রাণ বাঁচাচ্ছি। কখন গ্যাস আসবে সেই অপেক্ষায় আছি’, কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকার গৃহবধূ রুমা আক্তার। তিনি জানান, গত কয়েক মাস ধরেই এলাকায় গ্যাসের সংকট চলছে। কিন্তু আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) গ্যাস একদমই নেই। ফলে রান্নাও করা যায়নি।

তিতাস গ্যাস কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে সরবরাহ লাইনের পাইপ ফেটে যাওয়ায় গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। সমাধানের কাজ চলছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সিটিজেন জার্নালের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। তাদের ভাষ্য, অনেক দিন ধরেই গ্যাসের সংকট চলে আসছে। এখন তা আরও বেড়েছে।

কচুক্ষেত এলাকার বাসিন্দা শিল্পী আক্তার বলেন, সকাল সাতটার দিকে কিছুটা এসেছিল। এরপর আর গ্যাসের দেখা মেলেনি। পুরো এলাকায় এই সংকট। কখনো বিকালে, কখনো রাতে, আবার কখনো সকালে গ্যাস আসে। তবে তা বেশিক্ষণ থাকে না। গত দুই দিন ধরে সমস্যাটা বেশি।

রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকার বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ জানান, তাদের এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। আজ কোনো চুলাই জ্বলেনি। পাশের একটি হোটেল থেকে সকালের নাস্তা খেয়েছেন। দুপুর ও রাতের ব্যবস্থা কী হবে– তা জানা নেই।

শুধু মিরপুর, রূপনগর, কচুক্ষেত, গাবতলী, আমিনবাজারই নয়; রাজধানীর আরও নানান স্থানে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। বাসাবো এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বহুদিন ধরে এ এলাকায় গ্যাস সংকট চলছে। এ থেকে উত্তরণের কোনো উদ্যোগ দেখছি না।’

রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় গ্যাসের অভাবে খড়ির চুলায় রান্না চলছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় গ্যাসের অভাবে খড়ির চুলায় রান্না চলছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘সংকট সমাধানে আমরা কাজ করছি। এখন অনেক ব্যস্ত। প্রেস রিলিজ ও টেলিভিশনে স্ক্রলের মাধ্যমে সবাইকে জানানো হবে।’

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সচিব মো. লুৎফুল হায়দার মাসুম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘রাজধানীর তুরাগ নদে সরবরাহ লাইনের পাইপ ফেটে যাওয়ায় গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নদীর তলদেশে কাজ করার মতো সক্ষমতা আমাদের নেই। তবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

শনিবার এক বার্তায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিরপুর রোডে গণভবনের সামনে ৪ ইঞ্চি ব্যাসের একটি গ্যাস ভালভ ফেটে লিকেজ সৃষ্টি হয়। লিকেজ মেরামতের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্কের বেশ কয়েকটি ভালভ বন্ধ করে চাপ সীমিত রাখা হয়েছে। ফলে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে গেছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে তিতাস কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামত করা হয়। এ সময় পাইপলাইনে পানি ঢুকে যায়। পাশাপাশি সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীজুড়ে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ দেখা দেয়।

/এফসি/