শিরোনাম

ফরিদপুরে আ.লীগ থেকে পদত্যাগ না করেই বিএনপিতে যোগদান

ফরিদপুর সংবাদদাতা
ফরিদপুরে আ.লীগ থেকে পদত্যাগ না করেই বিএনপিতে যোগদান
বিএনপিতে যোগ দেন সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মিয়া। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ না করেই আনোয়ার হোসেন মিয়া শামা ওবায়েদের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া, বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদের গাড়ি ভাঙা মামলার অন্যতম আসামি।

আনোয়ার হোসেনের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন মিয়া সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ছোট ভাই সানোয়ার হোসেন মিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং জজ কোর্টের এপিপি।

শামা ওবায়েদ সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৫টার দিকে সালথা উপজেলার ভাওয়াল গ্রামে বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক প্রয়াত আতিয়ার রহমান কবির মিয়ার কবর জিয়ারত করেন বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ।

কবর জিয়ারত শেষে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন মিয়া শামা ওবায়েদের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।

শামা ওবায়েদ কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। শামা নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে।

২০১৮ সালের নির্বচানের সময় বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণার কাজে সালথায় আসেন শামা ওবায়েদ। ওই সময় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ গাড়ি ভাঙচুর মামলার ১২ নম্বর আসামি আনোয়ার হোসেন। বর্তমানে তিনি আদালতের আদেশে জামিনে আছেন।

যোগ দিয়ে আনোয়ার হোসেন মিয়া বলেন, আমি আজ থেকে বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদের দলে মিশে গেলাম। আমাগীতে আমি শামা ওবায়েদের একজন সৈনিক হয়ে ধানের শীষেন পক্ষে কাজ করব।

ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর, বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন আমাদের প্রিয় নেত্রী শামা ওবায়েদের ওই অনুষ্ঠানে আনোয়ার বক্তব্য দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

তবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ ছাড়াই একজন আ. লীগ নেতার বিএনপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এদেরই একজন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির শওকত হোসেন মুকুল। তিনি তার নিজ নামের ফেসবুক আইডিতে লেখেন, উনি (আনোয়ার হোসেন মিয়া) সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, উনার ভাই ছিলেন সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আরেক ভাই জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। উনারা কোনো সুযোগ-সুবিধা পান নাই কিন্তু সালথার স্বঘোষিত এমপি ছিলো! যে পদ দিয়ে এতো টাকা কামিয়েছে, আফসোস সেই পদটাও সঙ্গে নিয়ে গেলো! পদত্যাগ না করেই বিএনপিতে যোগ দিলেন। মানুষ এতো বড় অকৃতজ্ঞ হয় কি করে?