শিরোনাম

শ্রীপুরে জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

গাজীপুর সংবাদদাতা
শ্রীপুরে জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
মো. ফরিদ সরকার। ফাইল ফটো

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় জাসাস নেতা মো. ফরিদ সরকার (৪১) কে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবার। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ফরিদ সরকার ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের (জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা) সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের কাশেম মণ্ডলের ইটভাটায় ডেকে নিয়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০ বছর প্রবাসী জীবন কাটিয়ে দেড় বছর আগে বাংলাদেশে আসে ফরিদ। কিছুদিন ধরে ইট-বালির ব্যবসা শুরু করেছিলেন।  মঙ্গলবার রাতে ফোন পেয়ে নিজ মোটরসাইকেল নিয়ে স্থানীয় কাসেম মণ্ডলের ইটভাটায় গিয়েছিলেন ফরিদ। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইটভাটার কাছে তাকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ফরিদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ফরিদের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল।

স্বজনদের ধারণা, ওই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ফরিদের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে ছিলাম। তারা আমার ছেলেকে এভাবে মেরে ফেলবে তা ভাবিনি।’ তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিহত ফরিদের ভাই প্রবাসী জাহাঙ্গীর মাহমুদ বলেন,'দীর্ঘদিন ধরেই জমি নিয়ে আমাদের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছে। আমাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেছিল। ফরিদ বেঁচে থাকা অবস্থায় জমি পাবে না চিন্তা করে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার চাই।'

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, 'ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে।'

গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার ( কালিয়াকৈর সার্কেল) মেরাজুল ইসলাম বলেন, 'বেশ কয়েকটি বিষয় হাতে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মোটরসাইকেল, কাপড় ও অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।'