শিরোনাম

যশোরে রেজিস্ট্রি অফিসে আগুন, পুড়লো দুইশ’ বছরের পুরোনো দলিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে রেজিস্ট্রি অফিসে আগুন, পুড়লো দুইশ’ বছরের পুরোনো দলিল
যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো দলিল ও গুরুত্বপূর্ণ নথি। ছবি: সংগৃহীত

যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড সংরক্ষণাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে আকস্মিকভাবে অফিসের পুরোনো ভবনে আগুন লাগে। প্রায় এক ঘণ্টা জ্বলতে থাকা আগুনে দুইশ বছরের পুরোনো ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ ব্রিটিশ আমলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র পুড়ে গেছে।

জানা গেছে, ব্রিটিশ আমল থেকেই ওই ভবনে সরকারি কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ভবনটি অনেক আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নানা জটিলতার কারণে তা ভাঙা বা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। যদিও ভবনের চারপাশে অনেক বটবৃক্ষ জন্মেছে। তবুও সেখানে প্রাচীন রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ করা হতো।

ওই এলাকার কয়েকজন দোকানি জানিয়েছেন, আগুন লাগার ঘটনা রহস্যজনক। ভবনের ভেতরে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। সেজন্য বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে ভবনের ভেতরে আগুন লাগানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে বলে তাদের ধারণা।

যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সে সময় ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া ছিল এবং ভেতরে আগুন জ্বলছিল। সেখানে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুরোনো ভবনের গেটে তালা দেওয়া ছিল এবং সেখানে কোনো স্টাফ উপস্থিত ছিলেন না। তালা ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তসাপেক্ষে জানানো যাবে বলে তিনি জানান।

যশোরের শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন জানিয়েছেন, ১৭৪১ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ নানা কাগজপত্র এই পুরনো ভবনে সংরক্ষণ করা ছিল। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ভবনের দরজা সাধারণত খোলা থাকত না।

আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, পুরনো প্রায় সব কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবশিষ্ট কিছু কাগজপত্র আগুন নেভানোর সময় পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, এক সময়ে তিনি যশোর রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরি করেছেন।

যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন বলেন, রাত ৯টার পর পুরোনো ভবনে আগুন লাগার সংবাদ পান। ভবনের গেটে তালা দেওয়া থাকে। সেখানে হীরা নামে একজন নৈশপ্রহরীও দায়িত্বে থাকে। তবে আগুন লাগার সময় তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

/জেএইচ/

বিষয়:

আগুনযশোর