নতুন বছরে অর্থনীতিতে ৬ চ্যালেঞ্জ

নতুন বছরে অর্থনীতিতে ৬ চ্যালেঞ্জ
মরিয়ম সেঁজুতি

২০২৫ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল, ঘটনাবহুল বছর হিসেবে চিহ্নিত হলো। সামনে ২০২৬ সাল নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে, তবে সঙ্গে আছে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাহাড়। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন বছরে অর্থনীতিতে মোটা দাগে ৬ টি বড় চ্যালেঞ্জ লক্ষণীয়। এগুলো হচ্ছে- মূল্যস্ফীতি হ্রাস, বিনিয়োগে চাঞ্চল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামষ্টিক অর্থনীতির মান বাড়ানো, এলডিসি উত্তোরণ এবং রাজস্বনীতি চাঞ্চল্য আনা।
কার্যত নির্বাচনী বছর হচ্ছে ২০২৬ সাল। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিয়ে শুরু, এরপর সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পালা। রাজনৈতিক রূপান্তরের জন্য এটি একটি সুযোগসন্ধানী বছর। তবে ভবিষ্যতের সুর নির্ধারণ করবে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আস্থা ফিরিয়ে আনবে, বিনিয়োগের দ্বার খুলবে এবং পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করবে। তাদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন দেশের অর্থনীতিতে আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবারো বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন। এ স্থিতিশীলতার সুফল হিসেবে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিও গতি পাবে- এমন প্রত্যাশাই করছেন বিশ্লেষকেরা।
২০২৫ সালের বেশির ভাগ সময় ধরে যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে, তা ২০২৬ সালে কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দাম কমার প্রবণতা এবং দেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে, কারণ নতুন সরকারকে নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সময় নিতে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন বছরের সবচেয়ে বড় আশার বিষয় হলো ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। তার মতে, নতুন সরকারকে এই রাজনৈতিক ম্যান্ডেট কাজে লাগিয়ে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, নতুন বছরে অর্থনীতিতে মোটা দাগে ৬ টি বড় চ্যালেঞ্জ লক্ষণীয়। এগুলো হচ্ছেÑ মূল্যস্ফীতি হ্রাস, বিনিয়োগে চাঞ্চল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামষ্টিক অর্থনীতির মান বাড়ানো, এলডিসি উত্তোরণ এবং রাজস্বনীতি চাঞ্চল্য আনা।
মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের অনেক সমস্যা ২০২৬ সালেও থেকে যাবে। বিনিয়োগ এখনো ধীরগতির, আর মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। তিনি বলেন, অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বাজার তদারকি ও সরবরাহপক্ষের উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি বাড়তে থাকা ঋণ পরিশোধের চাপ সামাল দিতে সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানো জরুরি। এ জন্য করব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা, ভ্যাট ফাঁকি কমানো এবং আরো মানুষকে আয়কর ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমদানির ফিগার থেকেও বোঝা যাচ্ছে, আবার বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি থেকেও বোঝা যাচ্ছে- বিনিয়োগের বিভিন্ন সূচকে চাঞ্চল্য নেই। সুতরাং বিনিয়োগে চাঞ্চল্য আনা একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তৃতীয়ত হচ্ছে কর্মসংস্থান। নতুন নতুন বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারলে জুলাই- আগস্ট আন্দোলনের যে মূল উদ্দেশ্য- সেটা ভঙ্গুর হবে।
চতুর্থত, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মান আরো উন্নত করা। যাতে করে বাজার ব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জবাবদিহিতা, সুশাসনÑ অর্থাৎ অর্থনৈতিক ব্যাবস্থাপনা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মান এবং উৎকর্ষতার উন্নয়ণ।
পঞ্চম, ‘এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। এটা পেছানো সম্ভব না হলে চলতি বছরের নভেম্বরে এলডিসি উত্তোরণ ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে বড় একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দেশে এবং দেশের বাইরে প্রতিযোগিতা করার জন্য, একই সঙ্গে অন্য দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য।
ষষ্ট, সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যয় সঙ্কুলানের জন্য রাজস্ব নীতিতে বড় ধরনের চাঞ্চল্য আনতে হবে। যাতে করে অমারা যে একটা বড় ধরনের ঋণের ফাঁদে পড়ে যেতে পারি বা মধ্যম আয়ের দেশের ফাঁদে পড়ে যেতে পারি, এ থেকে বের হতে হলে অবশ্যই আমাদের রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। রাজস্ব ব্যয় করতে হবে, তবে আয় বাড়িয়ে কিছুটা উদ্বৃত্ত রেখে সেখান থেকে বার্ষিক উন্নয়ণ কর্মসূচির বাজেটে নিতে হবে। বর্তমানে বার্ষিক উন্নয়ণ কর্মসূচি পুরোটাই ঋণের উপরে নির্ভরশীল। এটা টেকসই কোন মডেল হতে পারে না। সুতরাং, অভ্যন্তরীন সঞ্চয় আহরণের দিকে আমাদের জোর দিতে হবে।
তার মতে, আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে, যা ব্যবসার খরচ কমানো, দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং বিশেষায়িত শিল্পপার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পণ্য ও রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনার কথা বহুদিন ধরে বলা হলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি। চলতি বছর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকায় এসব উদ্যোগ এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী বছরের সবচেয়ে বড় আশার জায়গা জাতীয় নির্বাচন। তিনি মনে করেন, চলমান সংস্কার ও পাঁচ বছরের নীতিগত স্থিরতা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়াবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, মানুষের আয় ও কেনাকাটার ক্ষমতা বাড়বে, আর অর্থনীতিও গতি পাবে।পাশাপাশি বড় কোনো বৈশ্বিক সংকট না এলে জ্বালানি ও খাদ্যের কম দাম এবং শক্তিশালী বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে।
নতুন বছরে তিনি চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরে মাশরুর রিয়াজ বলেন, প্রথমত, চলমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা করা। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ, রপ্তানি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দেশের ভেতরের চাহিদাসহ যেসব খাতের গতি কমে গেছে, সেগুলো আবার পুনরুজ্জীবিত করা। তৃতীয়ত, ব্যাংক, বিমা, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারসহ পুরো আর্থিক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা। চতুর্থত, একটি সুসংগঠিত অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।

২০২৫ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল, ঘটনাবহুল বছর হিসেবে চিহ্নিত হলো। সামনে ২০২৬ সাল নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে, তবে সঙ্গে আছে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাহাড়। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন বছরে অর্থনীতিতে মোটা দাগে ৬ টি বড় চ্যালেঞ্জ লক্ষণীয়। এগুলো হচ্ছে- মূল্যস্ফীতি হ্রাস, বিনিয়োগে চাঞ্চল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামষ্টিক অর্থনীতির মান বাড়ানো, এলডিসি উত্তোরণ এবং রাজস্বনীতি চাঞ্চল্য আনা।
কার্যত নির্বাচনী বছর হচ্ছে ২০২৬ সাল। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিয়ে শুরু, এরপর সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পালা। রাজনৈতিক রূপান্তরের জন্য এটি একটি সুযোগসন্ধানী বছর। তবে ভবিষ্যতের সুর নির্ধারণ করবে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আস্থা ফিরিয়ে আনবে, বিনিয়োগের দ্বার খুলবে এবং পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করবে। তাদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন দেশের অর্থনীতিতে আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবারো বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন। এ স্থিতিশীলতার সুফল হিসেবে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিও গতি পাবে- এমন প্রত্যাশাই করছেন বিশ্লেষকেরা।
২০২৫ সালের বেশির ভাগ সময় ধরে যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে, তা ২০২৬ সালে কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দাম কমার প্রবণতা এবং দেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে, কারণ নতুন সরকারকে নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সময় নিতে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন বছরের সবচেয়ে বড় আশার বিষয় হলো ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। তার মতে, নতুন সরকারকে এই রাজনৈতিক ম্যান্ডেট কাজে লাগিয়ে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, নতুন বছরে অর্থনীতিতে মোটা দাগে ৬ টি বড় চ্যালেঞ্জ লক্ষণীয়। এগুলো হচ্ছেÑ মূল্যস্ফীতি হ্রাস, বিনিয়োগে চাঞ্চল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামষ্টিক অর্থনীতির মান বাড়ানো, এলডিসি উত্তোরণ এবং রাজস্বনীতি চাঞ্চল্য আনা।
মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের অনেক সমস্যা ২০২৬ সালেও থেকে যাবে। বিনিয়োগ এখনো ধীরগতির, আর মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। তিনি বলেন, অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বাজার তদারকি ও সরবরাহপক্ষের উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি বাড়তে থাকা ঋণ পরিশোধের চাপ সামাল দিতে সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানো জরুরি। এ জন্য করব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা, ভ্যাট ফাঁকি কমানো এবং আরো মানুষকে আয়কর ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমদানির ফিগার থেকেও বোঝা যাচ্ছে, আবার বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি থেকেও বোঝা যাচ্ছে- বিনিয়োগের বিভিন্ন সূচকে চাঞ্চল্য নেই। সুতরাং বিনিয়োগে চাঞ্চল্য আনা একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তৃতীয়ত হচ্ছে কর্মসংস্থান। নতুন নতুন বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারলে জুলাই- আগস্ট আন্দোলনের যে মূল উদ্দেশ্য- সেটা ভঙ্গুর হবে।
চতুর্থত, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মান আরো উন্নত করা। যাতে করে বাজার ব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জবাবদিহিতা, সুশাসনÑ অর্থাৎ অর্থনৈতিক ব্যাবস্থাপনা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মান এবং উৎকর্ষতার উন্নয়ণ।
পঞ্চম, ‘এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। এটা পেছানো সম্ভব না হলে চলতি বছরের নভেম্বরে এলডিসি উত্তোরণ ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে বড় একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দেশে এবং দেশের বাইরে প্রতিযোগিতা করার জন্য, একই সঙ্গে অন্য দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য।
ষষ্ট, সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যয় সঙ্কুলানের জন্য রাজস্ব নীতিতে বড় ধরনের চাঞ্চল্য আনতে হবে। যাতে করে অমারা যে একটা বড় ধরনের ঋণের ফাঁদে পড়ে যেতে পারি বা মধ্যম আয়ের দেশের ফাঁদে পড়ে যেতে পারি, এ থেকে বের হতে হলে অবশ্যই আমাদের রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। রাজস্ব ব্যয় করতে হবে, তবে আয় বাড়িয়ে কিছুটা উদ্বৃত্ত রেখে সেখান থেকে বার্ষিক উন্নয়ণ কর্মসূচির বাজেটে নিতে হবে। বর্তমানে বার্ষিক উন্নয়ণ কর্মসূচি পুরোটাই ঋণের উপরে নির্ভরশীল। এটা টেকসই কোন মডেল হতে পারে না। সুতরাং, অভ্যন্তরীন সঞ্চয় আহরণের দিকে আমাদের জোর দিতে হবে।
তার মতে, আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে, যা ব্যবসার খরচ কমানো, দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং বিশেষায়িত শিল্পপার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পণ্য ও রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনার কথা বহুদিন ধরে বলা হলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি। চলতি বছর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকায় এসব উদ্যোগ এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী বছরের সবচেয়ে বড় আশার জায়গা জাতীয় নির্বাচন। তিনি মনে করেন, চলমান সংস্কার ও পাঁচ বছরের নীতিগত স্থিরতা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়াবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, মানুষের আয় ও কেনাকাটার ক্ষমতা বাড়বে, আর অর্থনীতিও গতি পাবে।পাশাপাশি বড় কোনো বৈশ্বিক সংকট না এলে জ্বালানি ও খাদ্যের কম দাম এবং শক্তিশালী বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে।
নতুন বছরে তিনি চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরে মাশরুর রিয়াজ বলেন, প্রথমত, চলমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা করা। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ, রপ্তানি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দেশের ভেতরের চাহিদাসহ যেসব খাতের গতি কমে গেছে, সেগুলো আবার পুনরুজ্জীবিত করা। তৃতীয়ত, ব্যাংক, বিমা, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারসহ পুরো আর্থিক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা। চতুর্থত, একটি সুসংগঠিত অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।

নতুন বছরে অর্থনীতিতে ৬ চ্যালেঞ্জ
মরিয়ম সেঁজুতি

২০২৫ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল, ঘটনাবহুল বছর হিসেবে চিহ্নিত হলো। সামনে ২০২৬ সাল নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে, তবে সঙ্গে আছে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাহাড়। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন বছরে অর্থনীতিতে মোটা দাগে ৬ টি বড় চ্যালেঞ্জ লক্ষণীয়। এগুলো হচ্ছে- মূল্যস্ফীতি হ্রাস, বিনিয়োগে চাঞ্চল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামষ্টিক অর্থনীতির মান বাড়ানো, এলডিসি উত্তোরণ এবং রাজস্বনীতি চাঞ্চল্য আনা।
কার্যত নির্বাচনী বছর হচ্ছে ২০২৬ সাল। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিয়ে শুরু, এরপর সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পালা। রাজনৈতিক রূপান্তরের জন্য এটি একটি সুযোগসন্ধানী বছর। তবে ভবিষ্যতের সুর নির্ধারণ করবে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আস্থা ফিরিয়ে আনবে, বিনিয়োগের দ্বার খুলবে এবং পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করবে। তাদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন দেশের অর্থনীতিতে আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবারো বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন। এ স্থিতিশীলতার সুফল হিসেবে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিও গতি পাবে- এমন প্রত্যাশাই করছেন বিশ্লেষকেরা।
২০২৫ সালের বেশির ভাগ সময় ধরে যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে, তা ২০২৬ সালে কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দাম কমার প্রবণতা এবং দেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে, কারণ নতুন সরকারকে নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সময় নিতে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন বছরের সবচেয়ে বড় আশার বিষয় হলো ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। তার মতে, নতুন সরকারকে এই রাজনৈতিক ম্যান্ডেট কাজে লাগিয়ে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, নতুন বছরে অর্থনীতিতে মোটা দাগে ৬ টি বড় চ্যালেঞ্জ লক্ষণীয়। এগুলো হচ্ছেÑ মূল্যস্ফীতি হ্রাস, বিনিয়োগে চাঞ্চল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামষ্টিক অর্থনীতির মান বাড়ানো, এলডিসি উত্তোরণ এবং রাজস্বনীতি চাঞ্চল্য আনা।
মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের অনেক সমস্যা ২০২৬ সালেও থেকে যাবে। বিনিয়োগ এখনো ধীরগতির, আর মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। তিনি বলেন, অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বাজার তদারকি ও সরবরাহপক্ষের উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি বাড়তে থাকা ঋণ পরিশোধের চাপ সামাল দিতে সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানো জরুরি। এ জন্য করব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা, ভ্যাট ফাঁকি কমানো এবং আরো মানুষকে আয়কর ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমদানির ফিগার থেকেও বোঝা যাচ্ছে, আবার বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি থেকেও বোঝা যাচ্ছে- বিনিয়োগের বিভিন্ন সূচকে চাঞ্চল্য নেই। সুতরাং বিনিয়োগে চাঞ্চল্য আনা একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তৃতীয়ত হচ্ছে কর্মসংস্থান। নতুন নতুন বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারলে জুলাই- আগস্ট আন্দোলনের যে মূল উদ্দেশ্য- সেটা ভঙ্গুর হবে।
চতুর্থত, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মান আরো উন্নত করা। যাতে করে বাজার ব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জবাবদিহিতা, সুশাসনÑ অর্থাৎ অর্থনৈতিক ব্যাবস্থাপনা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মান এবং উৎকর্ষতার উন্নয়ণ।
পঞ্চম, ‘এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। এটা পেছানো সম্ভব না হলে চলতি বছরের নভেম্বরে এলডিসি উত্তোরণ ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে বড় একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দেশে এবং দেশের বাইরে প্রতিযোগিতা করার জন্য, একই সঙ্গে অন্য দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য।
ষষ্ট, সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যয় সঙ্কুলানের জন্য রাজস্ব নীতিতে বড় ধরনের চাঞ্চল্য আনতে হবে। যাতে করে অমারা যে একটা বড় ধরনের ঋণের ফাঁদে পড়ে যেতে পারি বা মধ্যম আয়ের দেশের ফাঁদে পড়ে যেতে পারি, এ থেকে বের হতে হলে অবশ্যই আমাদের রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। রাজস্ব ব্যয় করতে হবে, তবে আয় বাড়িয়ে কিছুটা উদ্বৃত্ত রেখে সেখান থেকে বার্ষিক উন্নয়ণ কর্মসূচির বাজেটে নিতে হবে। বর্তমানে বার্ষিক উন্নয়ণ কর্মসূচি পুরোটাই ঋণের উপরে নির্ভরশীল। এটা টেকসই কোন মডেল হতে পারে না। সুতরাং, অভ্যন্তরীন সঞ্চয় আহরণের দিকে আমাদের জোর দিতে হবে।
তার মতে, আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে, যা ব্যবসার খরচ কমানো, দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং বিশেষায়িত শিল্পপার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পণ্য ও রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনার কথা বহুদিন ধরে বলা হলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি। চলতি বছর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকায় এসব উদ্যোগ এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী বছরের সবচেয়ে বড় আশার জায়গা জাতীয় নির্বাচন। তিনি মনে করেন, চলমান সংস্কার ও পাঁচ বছরের নীতিগত স্থিরতা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়াবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, মানুষের আয় ও কেনাকাটার ক্ষমতা বাড়বে, আর অর্থনীতিও গতি পাবে।পাশাপাশি বড় কোনো বৈশ্বিক সংকট না এলে জ্বালানি ও খাদ্যের কম দাম এবং শক্তিশালী বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে।
নতুন বছরে তিনি চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরে মাশরুর রিয়াজ বলেন, প্রথমত, চলমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা করা। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ, রপ্তানি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দেশের ভেতরের চাহিদাসহ যেসব খাতের গতি কমে গেছে, সেগুলো আবার পুনরুজ্জীবিত করা। তৃতীয়ত, ব্যাংক, বিমা, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারসহ পুরো আর্থিক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা। চতুর্থত, একটি সুসংগঠিত অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।




