শিরোনাম

স্বাস্থ্যকর ভেবে যেসব খাবার ওজন কমার পথে বাধা

সিটিজেন-ডেস্ক­
স্বাস্থ্যকর ভেবে যেসব খাবার ওজন কমার পথে বাধা
স্বাস্থ্যকর খাবার ভেবে অনেক খাওয়ার পরও অনেকের ওজন কমে না। কারণ বাইরে থেকে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও কিছু খাবার অসতর্কভাবে খেলে ওজন কমার গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ওজন কমানোর পথে সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠে ‘স্বাস্থ্যকর খাবার’। তালিকায় থাকে প্রোটিন বার, দই, বাদাম, ওটস কিংবা স্মুদি। কিন্তু নিয়ম মেনে খাওয়ার পরও অনেকের ওজন কমে না— বরং এক জায়গায় এসে আটকে যায়।

পুষ্টিবিদদের ভাষায়, সমস্যাটা খাবারের নাম নয়; আসল বিষয় হলো তার উপাদান, প্রক্রিয়াজাতকরণ আর কতটা খাওয়া হচ্ছে। বাইরে থেকে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও কিছু খাবার অসতর্কভাবে খেলে ওজন কমার গতি ধীর হয়ে যেতে পারে।

প্রোটিন বার: সহজ সমাধানের জটিলতা

bigStoryContent

ব্যস্ত দিনের নাশতা বা হালকা খাবার হিসেবে প্রোটিন বার জনপ্রিয়। প্রোটিন বেশি থাকায় অনেকেই ভাবেন, এটি পেট ভরাবে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ প্রোটিন বারই অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত। এতে থাকে যোগ করা চিনি ও উচ্চমাত্রার ক্যালরি। অনেক সময় একটি বারই পূর্ণাঙ্গ খাবারের সমান শক্তি জোগায়। ফলে নিয়মিত খেলে দৈনিক ক্যালরির হিসাব সহজেই ছাপিয়ে যায়।

স্বাদযুক্ত দই: ভালো থাকার ভেতরের চিনি

bigStoryContent

দই অন্ত্রের জন্য উপকারী, তবে স্বাদযুক্ত দইয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। এই দইগুলোতে বাড়তি চিনি যোগ করা হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায়।

এর ফল হিসেবে কিছু সময় পরই আবার খিদে লাগে। নিয়মিত এমন দই খেলে ওজন কমার বদলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে ওঠে। সাধারণ বা অল্প চিনি দেওয়া দই তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।

বাদাম ও বীজের মিশ্রণ: কোথায় বেশি যায় ক্যালরি

বাদাম ও বীজ পুষ্টিকর—এ নিয়ে দ্বিমত নেই। কিন্তু বাজারে পাওয়া অনেক মিশ্রণে বাদামের চেয়ে বেশি থাকে চিনি মাখানো শুকনো ফল বা চকলেট।

স্বাদ বাড়লেও ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায় অনেক। অল্প অল্প করে খেতে গিয়ে কখন যে পরিমাণ ছাড়িয়ে যায়, তা টের পাওয়া যায় না।

ভাজা ওটস বা গ্রানোলা: পরিমাণই আসল চ্যালেঞ্জ

bigStoryContent

ওটস বা গ্রানোলাকে অনেকেই স্বাস্থ্যকর নাশতার প্রতীক মনে করেন। শস্য ও আঁশের কারণে এগুলো ভালো হলেও সমস্যা হয় পরিমাণে।

ভাজা ওটসের মিশ্রণে চর্বি ও চিনি লুকিয়ে থাকতে পারে। এক বাটির বদলে দুই বাটি খাওয়া হলে দৈনিক প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তি শরীরে ঢুকে পড়ে।

স্মুদি: তরল খাবারের ভুল ধারণা

bigStoryContent

ফল ও সবজি একসঙ্গে নেওয়ার সহজ উপায় স্মুদি। কিন্তু বানানোর সময় যদি বাদামের মাখন, মধু বা ঘন দুধ বেশি দেওয়া হয়, তাহলে স্মুদি দ্রুত ক্যালরিবোমায় পরিণত হয়। আর তরল খাবার চিবিয়ে খাওয়ার মতো তৃপ্তি দেয় না। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই আবার খেতে ইচ্ছে করে।

চর্বিমুক্ত মিষ্টান্ন: নামেই ভরসা

bigStoryContent

‘চর্বি নেই’—এই লেখা দেখেই অনেকেই নিশ্চিন্ত হন। অথচ চর্বি কমাতে গিয়ে এসব খাবারে অনেক সময় চিনি বা কৃত্রিম উপাদান বাড়ানো হয়।

ফলে শরীরের উপকার না হয়ে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে সাধারণ মিষ্টান্নই ভালো বিকল্প।

শুকনো ফল: অল্পেই বেশি

bigStoryContent

শুকনো ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হলেও ওজন কমানোর সময় এগুলো খেতে হয় সীমা মেনে। পানি কমে যাওয়ায় এতে ক্যালরির ঘনত্ব বেশি থাকে। তাজা ফল তুলনামূলকভাবে বেশি তৃপ্তি দেয় এবং হজমেও সহায়ক।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ স্পষ্ট— স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই নির্বিঘ্নে খাওয়া নয়। উপাদান কী, কতটা খাচ্ছেন আর সেটি সারাদিনের মোট ক্যালরিতে কী প্রভাব ফেলছে—এই হিসাবটাই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।