শিরোনাম

বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা জানালো ইরান

সিটিজেন-ডেস্ক­
বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা জানালো ইরান
২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানিয়েছে, বিক্ষোভে মোট ৩ হাজার ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ এবং ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিহত শহীদদের মধ্যে রয়েছে বেসামরিক আন্দোলনকারী ছাড়াও নিরাপত্তা কর্মী ও কর্মকর্তা।

কাদেরকে সন্ত্রাসী-দাঙ্গাবাজ ঘোষণা করা হয়েছে– বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর পৌরজামশিদিয়ান। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে যারা বিক্ষোভে সন্ত্রাস ও দাঙ্গাবাজি করেছে, সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে– তাদেরকে ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদদের তালিকা সন্ত্রাসী-দাঙ্গাবাজদের তালিকা থেকে অনেক বড়। এই তালিকায় সাধারণ বেসমারিক বিক্ষোভকারী যেন আছেন, তেমনি নিরাপত্তা বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যাক কর্মকর্তা-কর্মীও রয়েছেন। নিহতদের এ দুই তালিকা প্রমাণ করে যে সরকার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত (বিক্ষোভকারীদের প্রতি) সহনশীলতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, বিক্ষোভের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৬০ জন। সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে– ইরানের অভ্যন্তরে নিজেদের কর্মীদের নেটওয়ার্কের বরাতে নিহতের এই সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে তারা।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজারেরও বেশি। ১৮ জানুয়ারি ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার জন নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই মৃত্যুর সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এই বিক্ষোভ দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে পড়ে। দিন দিন তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

বিক্ষোভ দমন করতে ইরান ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি দেশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। ব্যাপক দমন-পীড়ণের মাধ্যমে বর্তমানে ইরানের সরকার বিক্ষোভ-উত্তেজনা অনেকাংশে প্রশমন করতে সক্ষম হয়েছে।

সূত্র : এপি

/জেএইচ/