শিরোনাম

গুলিবর্ষণকারী পুলিশই জুলাই যোদ্ধা ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে, অভিযোগ বৈষম্যবিরোধীদের

ঢাবি প্রতিনিধি
গুলিবর্ষণকারী পুলিশই জুলাই যোদ্ধা ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে, অভিযোগ বৈষম্যবিরোধীদের
মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ও আহত সেলের সম্পাদক তামিম খান। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

যে পুলিশ সদস্য একজন জুলাই যোদ্ধাকে গুলি করেছিলেন, তাকেই পরবর্তীতে ওই আহত যোদ্ধার ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে– এমন অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। বিষয়টিকে তারা 'চরম লজ্জাজনক' বলে মন্তব্য করেছেন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ও আহত সেলের সম্পাদক তামিম খান। তিনি বলেন, একজন আহত জুলাই যোদ্ধা আমার কাছে কান্না করে বলেছেন– 'ভাই, যে আমাকে গুলি করেছে, সেই পুলিশই এখন আমাকে ভেরিফাই করার জন্য পিবিআইতে ডেকেছে।’

তামিম খান জানান, জুলাই আন্দোলনে আহতদের তালিকাভুক্তির কাজ শুরু থেকেই নানা জটিলতা ও হয়রানির মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে। প্রথমদিকে ছাত্র প্রতিনিধি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের সমন্বয়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই প্রায় সাড়ে ৯ হাজার আহতের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১ হাজার ৪৮৫ জন আহতকে নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে ২ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর কারণ হিসেবে জানানো হয়– বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চাপের মুখে ভুয়া আহত অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা হচ্ছে। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি সম্পূর্ণভাবে তালিকার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

তামিম খান বলেন, অনেক আহত জুলাই যোদ্ধা ছয় মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের কি তালিকার বাইরে রাখা হবে? তালিকার বিষয়ে গণমাধ্যম বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, ফরম বা নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। চাপের মুখে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে পুনরায় বৈঠক হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়– কোনো আহত জুলাই যোদ্ধা তালিকার বাইরে থাকবে না। এরপর দরখাস্ত নেওয়া শুরু হলে এপ্রিল-জুনের মধ্যে আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দুই থেকে আড়াই হাজারে।

তিনি বলেন, ২ জুন থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত রাত ২টা-৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বসে আমরা তালিকা যাচাই করেছি। না খেয়ে কাজ করেছি। অথচ তালিকার দাবিতে আমাদের আট-দশবার লংমার্চ করতে হয়েছে। আহত যোদ্ধাদের সম্মান কি এখন আন্দোলন ছাড়া পাওয়া যাবে না? ঢাকা জেলার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৪২ জনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৩৯২ জন। তিন মাস পার হলেও এখনো সেই তালিকার গেজেট হয়নি।

তামিম খান বলেন, এই তালিকাগুলো হঠাৎ করেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশকে ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকী যে পুলিশ গুলি করেছে, সেই পুলিশই আহতকে যাচাই করছে। ভেরিফিকেশনের নামে আহতদের কাছ থেকে সমন্বয়কের প্রত্যয়ন, দুজন সাক্ষী, আন্দোলনে কেন গিয়েছিলেন– এমন প্রশ্ন করে হয়রানি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আহত সাংবাদিকদের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তামিম খান বলেন, আমি ৩২ জন সাংবাদিকের দরখাস্ত পেয়েছি, যাদের মধ্যে ২৪ জন প্রকৃত আহত জুলাই যোদ্ধা। তারাও এখনো তালিকাভুক্ত হননি।

২০ জানুয়ারির মধ্যে যাচাই-বাছাই কমিটির পাঠানো তালিকা অনুযায়ী এমআইএস ও গেজেট নিশ্চিত না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তামিম খান। তিনি বলেন, এবার আর শুধু পদত্যাগ দাবি নয়– দায়িত্বে অবহেলা করলে উপদেষ্টাদের পদত্যাগ করানো হবে।

/এফসি/