শিরোনাম

রাজউক অধ্যাদেশ জারি

নকশা লঙ্ঘনে ২ বছর জেল, জলাশয় ভরাটে ১০ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নকশা লঙ্ঘনে ২ বছর জেল, জলাশয় ভরাটে ১০ বছর
অধ্যাদেশে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখেছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখেছে সরকার। একই সঙ্গে কৌশলগত পরিকল্পনা ও বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) লঙ্ঘন এবং জলাশয় ভরাটের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিত, আধুনিক ও দুর্যোগ সহনশীল নগর গড়ে তুলতে ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করে এসব কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাত দশকের পুরোনো ‘টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৫৩’ রহিত করা হয়েছে।

১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশটি জারি করেন। একই দিনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার ড. মো. রেজাউল করিম।

নতুন অধ্যাদেশটি ঢাকা মহানগরী, ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ ও সাভার উপজেলা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজউক নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং সরকার সময় সময় প্রজ্ঞাপন দিয়ে নির্ধারণ করা অন্যান্য এলাকায় প্রযোজ্য হবে।

অধ্যাদেশের ৫৪ ধারা অনুযায়ী, রাজউকের আওতাধীন এলাকায় অনুমোদিত নকশার বাইরে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এ ছাড়া ৪৮ ধারা অনুযায়ী, কৌশলগত পরিকল্পনা বা ড্যাপে নির্ধারিত ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানার পাশাপাশি প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় জলাশয় ও নিচু জমি ভরাটের বিরুদ্ধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন অধ্যাদেশে। ৪৯ ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নদী, খাল, বিল বা প্রাকৃতিক জলাধারের পানি প্রবাহে বাধা দিলে প্রথমবার অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। একই অপরাধ পুনরায় করলে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে নকশাবহির্ভূত নির্মাণ কাজে সহায়তা করলে বা জেনেও নীরব থাকলে তাঁকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে।

অধ্যাদেশে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা উপদেষ্টাকে সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট সচিবকে সহসভাপতি করে একটি শক্তিশালী বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। বোর্ডে স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া কৌশলগত পরিকল্পনা ও বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়নকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনার ব্যত্যয় ঘটানো এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নতুন আইনে ‘ভূমি পুনর্বিন্যাস’ ও ‘উন্নয়ন স্বত্ব বিনিময় (টিডিআর)’–এর মতো আধুনিক ধারণা যুক্ত করা হয়েছে। এতে অপরিকল্পিত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকে মালিকানা অক্ষুণ্ন রেখে পরিকল্পিত নগর এলাকায় রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।

উন্নয়ন প্রকল্পে উচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তি বা পেশা হারানো মানুষকে ক্ষতিপূরণ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্লট বা ফ্ল্যাট দেওয়ার নিশ্চয়তা রাখা হয়েছে। দরিদ্র ও ভূমিহীনদের আবাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

/এসএ/