উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ মৃত্যু নিয়ে রহস্য

উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ মৃত্যু নিয়ে রহস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরায় বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের ৬ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বেশ কয়েকজন। আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভবনটির দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আহত ও হাসপাতালে নিহত সবাইকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কেউ দগ্ধ হননি। তাই এসব মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাসার ছয় তলা ভবনে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উত্তরায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাঁচটি ইউনিট সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এসময় থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করে।
নিহতরা হলেন– কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী উপজেলার কাজী বাড়ি নানুয়া দীঘির পশ্চিম পাড়া গ্রামের কাজী খোরশেদুল ইসলামের ছেলে কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) ও তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২) এবং ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দড়িপারশী গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)।
কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী মারা যান শহীদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আফরোজা আক্তার সুবর্ণা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে এবং কাজী ফাইয়াজ রিশান ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা যান। এদিকে হারিছ উদ্দিন ও তার ছেলে রাহাব মুনসুর আলী মেডিকেলে এবং ভাতিজি রোদেলা আক্তার লুবানা উত্তরা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান।
স্বজনরা জানিয়েছেন, রাব্বি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী সুবর্ণা চাকরি করতেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে। তাদের আরেক ছেলে ফাইয়াজ উত্তরায় নানীর বাসায় থাকায় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই তিনজনের কেউ দগ্ধ হননি। ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত হারিছ উদ্দিন পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হতো।

জানা গেছে, ষষ্ঠ তলা ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ডুপ্লেক্স। সেখানে ভবনের মালিক মো. জুয়েল ও তার পরিবার বসবাস করেন। বাকি চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ভাড়াটিয়ারা থাকেন। আহত ও হাসপাতালে নিহত সবাইকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল ৮টার দিকে ৩৪ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলার কর্নারের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুনটি হঠাৎ করে দাও দাও করে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
সরজমিনে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ভবনটির সামনে উৎসুক জনতার ভীড়। ভবনটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে।

ভবনের বাঁ পাশের অংশটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও ষষ্ঠ তলার বাইরের দিক থেকে পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন দেখা যায়। তবে চতুর্থ ও ষষ্ঠ তলায় আগুনের ছাপ দেখা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর বিকাল থেকে ভবনটির ভাড়াটিয়াদের মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে দেখা গেছে। তবে তাদের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ভবনটির দ্বিতীয় তলার রান্নাঘর থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
উত্তরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলম হোসেন বলেন, পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ২৫ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, আমরা পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে ১৩ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছি। তবে তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা ছিল গুরুতর।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আলম হোসেন বলেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ছিল ডুপ্লেক্স। দ্বিতীয় তলায় বড় ড্রয়িং রুম ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ড্রয়িং রুমের বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। বিস্তারিত অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভবনটির ছাদ সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। এ কারণে অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচানোর জন্যও ছাদে যেতে পারেননি। পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় আটকা পড়ে তারা মারা গেছেন বা অসুস্থ হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনটির একজন সিকিউরিটি গার্ডও (নিরাপত্তাকর্মী) বলেছেন, ‘ছাদে সব সময় তালা লাগানো থাকে।’

রাজধানীর উত্তরায় বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের ৬ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বেশ কয়েকজন। আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভবনটির দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আহত ও হাসপাতালে নিহত সবাইকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কেউ দগ্ধ হননি। তাই এসব মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাসার ছয় তলা ভবনে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উত্তরায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাঁচটি ইউনিট সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এসময় থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করে।
নিহতরা হলেন– কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী উপজেলার কাজী বাড়ি নানুয়া দীঘির পশ্চিম পাড়া গ্রামের কাজী খোরশেদুল ইসলামের ছেলে কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) ও তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২) এবং ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দড়িপারশী গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)।
কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী মারা যান শহীদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আফরোজা আক্তার সুবর্ণা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে এবং কাজী ফাইয়াজ রিশান ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা যান। এদিকে হারিছ উদ্দিন ও তার ছেলে রাহাব মুনসুর আলী মেডিকেলে এবং ভাতিজি রোদেলা আক্তার লুবানা উত্তরা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান।
স্বজনরা জানিয়েছেন, রাব্বি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী সুবর্ণা চাকরি করতেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে। তাদের আরেক ছেলে ফাইয়াজ উত্তরায় নানীর বাসায় থাকায় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই তিনজনের কেউ দগ্ধ হননি। ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত হারিছ উদ্দিন পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হতো।

জানা গেছে, ষষ্ঠ তলা ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ডুপ্লেক্স। সেখানে ভবনের মালিক মো. জুয়েল ও তার পরিবার বসবাস করেন। বাকি চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ভাড়াটিয়ারা থাকেন। আহত ও হাসপাতালে নিহত সবাইকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল ৮টার দিকে ৩৪ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলার কর্নারের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুনটি হঠাৎ করে দাও দাও করে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
সরজমিনে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ভবনটির সামনে উৎসুক জনতার ভীড়। ভবনটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে।

ভবনের বাঁ পাশের অংশটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও ষষ্ঠ তলার বাইরের দিক থেকে পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন দেখা যায়। তবে চতুর্থ ও ষষ্ঠ তলায় আগুনের ছাপ দেখা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর বিকাল থেকে ভবনটির ভাড়াটিয়াদের মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে দেখা গেছে। তবে তাদের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ভবনটির দ্বিতীয় তলার রান্নাঘর থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
উত্তরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলম হোসেন বলেন, পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ২৫ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, আমরা পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে ১৩ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছি। তবে তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা ছিল গুরুতর।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আলম হোসেন বলেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ছিল ডুপ্লেক্স। দ্বিতীয় তলায় বড় ড্রয়িং রুম ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ড্রয়িং রুমের বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। বিস্তারিত অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভবনটির ছাদ সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। এ কারণে অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচানোর জন্যও ছাদে যেতে পারেননি। পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় আটকা পড়ে তারা মারা গেছেন বা অসুস্থ হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনটির একজন সিকিউরিটি গার্ডও (নিরাপত্তাকর্মী) বলেছেন, ‘ছাদে সব সময় তালা লাগানো থাকে।’

উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ মৃত্যু নিয়ে রহস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরায় বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের ৬ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বেশ কয়েকজন। আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভবনটির দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আহত ও হাসপাতালে নিহত সবাইকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কেউ দগ্ধ হননি। তাই এসব মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাসার ছয় তলা ভবনে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উত্তরায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাঁচটি ইউনিট সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এসময় থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করে।
নিহতরা হলেন– কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী উপজেলার কাজী বাড়ি নানুয়া দীঘির পশ্চিম পাড়া গ্রামের কাজী খোরশেদুল ইসলামের ছেলে কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) ও তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২) এবং ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দড়িপারশী গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)।
কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী মারা যান শহীদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আফরোজা আক্তার সুবর্ণা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে এবং কাজী ফাইয়াজ রিশান ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা যান। এদিকে হারিছ উদ্দিন ও তার ছেলে রাহাব মুনসুর আলী মেডিকেলে এবং ভাতিজি রোদেলা আক্তার লুবানা উত্তরা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান।
স্বজনরা জানিয়েছেন, রাব্বি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী সুবর্ণা চাকরি করতেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে। তাদের আরেক ছেলে ফাইয়াজ উত্তরায় নানীর বাসায় থাকায় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই তিনজনের কেউ দগ্ধ হননি। ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত হারিছ উদ্দিন পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হতো।

জানা গেছে, ষষ্ঠ তলা ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ডুপ্লেক্স। সেখানে ভবনের মালিক মো. জুয়েল ও তার পরিবার বসবাস করেন। বাকি চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ভাড়াটিয়ারা থাকেন। আহত ও হাসপাতালে নিহত সবাইকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল ৮টার দিকে ৩৪ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলার কর্নারের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুনটি হঠাৎ করে দাও দাও করে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
সরজমিনে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ভবনটির সামনে উৎসুক জনতার ভীড়। ভবনটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে।

ভবনের বাঁ পাশের অংশটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও ষষ্ঠ তলার বাইরের দিক থেকে পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন দেখা যায়। তবে চতুর্থ ও ষষ্ঠ তলায় আগুনের ছাপ দেখা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর বিকাল থেকে ভবনটির ভাড়াটিয়াদের মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে দেখা গেছে। তবে তাদের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ভবনটির দ্বিতীয় তলার রান্নাঘর থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
উত্তরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলম হোসেন বলেন, পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ২৫ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, আমরা পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে ১৩ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছি। তবে তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা ছিল গুরুতর।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আলম হোসেন বলেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ছিল ডুপ্লেক্স। দ্বিতীয় তলায় বড় ড্রয়িং রুম ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ড্রয়িং রুমের বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। বিস্তারিত অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভবনটির ছাদ সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। এ কারণে অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচানোর জন্যও ছাদে যেতে পারেননি। পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় আটকা পড়ে তারা মারা গেছেন বা অসুস্থ হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনটির একজন সিকিউরিটি গার্ডও (নিরাপত্তাকর্মী) বলেছেন, ‘ছাদে সব সময় তালা লাগানো থাকে।’




