শিরোনাম

পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৪২ হাজার, সর্বোচ্চ ৩ লাখ করার সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৪২ হাজার, সর্বোচ্চ ৩ লাখ করার সুপারিশ
ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্তের পথে। আগামী ২১ জানুয়ারি পে কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে রিপোর্ট হস্তান্তর করবে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর ফলে সরকারের অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা।

বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড রয়েছে। দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এ পে স্কেল অনুসারে বেতন-ভাতা পান।

এই কাঠামোতে সর্বনিম্ন, অর্থাৎ ২০ তম গ্রেডে মূল বেতন হয় মাসে ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে যোগ দেওয়া নবম গ্রেডের একজন চাকরিজীবীর মূল বেতন হয় মাসে ২২ হাজার টাকা।

আর সর্বোচ্চ ধাপে একজন সচিব মাসে ৭৮ হাজার টাকা মূল বেতন হিসেবে পান।

মূল বেতনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত বাবদ আলাদা ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পান সরকারি কর্মচারীরা।

এছাড়া বছরে দুটি উৎসব ভাতার পাশাপাশি বাংলা নববর্ষে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়তি একটি ভাতা পান তারা।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো করতে গত ২৪ জুলাই পে কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে গঠিত এই পে কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

পে কমিশনের প্রধান বলেন, ‘আমরা ২১ জানুয়ারি (বুধবার) প্রধান উপদেষ্টার সময় পেয়েছি। সেদিন আমরা প্রতিবেদন তার হাতে তুলে দেব। এতটুকু বলতে পারি, খুব ভালো কিছু হচ্ছে। খুব ভালো প্রস্তাব আমরা দিচ্ছি।’

জানা গেছে, ২০তম গ্রেডে সবচেয়ে বেশি ১৪৪ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতন বেড়ে ২০ হাজার টাকা হচ্ছে। সর্বসাকুল্যে যা দাঁড়াতে পারে ৪২ হাজারে।

আর সচিবদের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বেতন বেড়েছে ১০৫ শতাংশ। অন্যান্য ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা মিলিয়ে একজনের মোট বেতন ছাড়াতে পারে ৩ লাখ টাকা।

তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। তবে, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে এই খাতে খরচ আরও প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এই ধরনের ব্যয় এবং এর প্রভাবের জন্য জনগণ কতটা প্রস্তুত, তা যাচাই করা জরুরি। এছাড়া এ ধরনের ব্যয় বাস্তবায়নের সক্ষমতা সরকারের আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিশ্লেষকদের।

কমিশন গঠন করলেও অন্তর্বর্তী সরকার পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত। তবুও সংশোধিত বাজেটে অর্থ মন্ত্রণালয় এই খাতে বরাদ্দ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়েছে।

/জেএইচ/