শিরোনাম

তরুণদের অনেকে নির্বাচনে জিতবেন, প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক
তরুণদের অনেকে নির্বাচনে জিতবেন, প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টার
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

তরুণদের রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাদের অনেকে নির্বাচনে জিতে আসবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আয়োজিত রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন আগামী ১৫ জানুয়ারি শেষ হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধু চাকরি পাওয়ার জন্য পড়াশোনা করানো হয়। চাকরি খোঁজার প্রবণতা বাদ দিয়ে কেন উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে এগোচ্ছে না– তিনি এমন প্রশ্ন তোলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ এবং কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস  ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনে  বক্তব্য রাখেন। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

ইউজিসি কর্মকর্তারা জানান, হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইউজিসি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। এ ছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষক অংশ নিচ্ছেন।

ইউজিসি জানায়, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং সার্ক দেশগুলোর মধ্যে ইউজিসির নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

তিন দিনে মোট আটটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। আজ প্রথম দিন দুটি অধিবেশনে আলোচনা হবে– ‘দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা: শাসনব্যবস্থা, গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তি’ এবং ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক সম্পৃক্ততা’।

দ্বিতীয় দিনে আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে– কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম, স্নাতকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথ: সহযোগিতা, সংহতি ও নেটওয়ার্কিং, উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে অংশীজনদের সংলাপ: নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বর এবং হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপটে উপাচার্যদের সঙ্গে সংলাপ।

শেষ দিনে উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর ‘ঢাকা উচ্চশিক্ষা ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।

/এফসি/