শিরোনাম

চলে গেলেন প্রখ্যাত সুরকার মলয় কুমার গাঙ্গুলী

নিজস্ব প্রতিবেদক
চলে গেলেন প্রখ্যাত সুরকার মলয় কুমার গাঙ্গুলী
প্রখ্যাত সুরকার মলয় কুমার গাঙ্গুলী। ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স

চলে গেলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী ও সুরকার মলয় কুমার গাঙ্গুলী। সোমবার (১২) রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তার পরিবার। বর্তমানে মলয় কুমার গাঙ্গুলীর মরদেহ মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে রাখা আছে।

মলয় কুমার গাঙ্গুলীর একমাত্র মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলে শেষকৃত্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নেত্রকোণার কেন্দুয়ার মোজাফফরপুর গ্রামে ১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণ করা এই গুণী ব্যক্তি জীবনের সবটুকু দেশপ্রেম এবং সঙ্গীত সাধনায় নিয়োজিত ছিলেন।

১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে কণ্ঠকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধ করেছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী ও সুরকার মলয় কুমার গাঙ্গুলী। যুদ্ধের প্রস্তুতির সময় তিনি বাড়ি ছাড়েন এবং কলকাতায় গিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে যোগ দেন। বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে নিয়মিত গান রচনা, সুরারোপ এবং কণ্ঠের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জুগিয়েছেন তিনি।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ‘পুত্রবধূ’ সিনেমায় ‘গুরু উপায় বলো না’ গানটি গেয়েছিলেন মলয় কুমার গাঙ্গুলী। পর্দায় ঠোঁট মিলিয়েছিলেন প্রয়াত অভিনেতা প্রবীর মিত্র। এই গান তাকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল। এছাড়া তার গাওয়া ‘আমার মনতো বসে না গৃহ কাজে সজনী গো’ এবং ‘অন্তরে বৈরাগীর লাউয়া বাজে’-এর মতো গানগুলোও আজও মানুষের কণ্ঠে শোনা যায়।

মলয় কুমার গাঙ্গুলীর ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলো ১৯৯০ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের জন্য তৈরি করা ঐতিহাসিক গান ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’। গানটির সুরারোপ করেছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় ‘জনতার নৌকা’ অ্যালবামে গানটি অন্তর্ভুক্ত হলে তা সারাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠে গানটি পুনরায় রেকর্ড করান। ২০২০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মলয় কুমার গাঙ্গুলীকে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছিল।

মৃত্যুুর পরে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মান বা স্বীকৃতির কোনো আবেদন তার নেই, সে কথাও জীবদ্দশায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে গেছেন তিনি।

/জেএইচ/