শিরোনাম

বিটিআরসি অফিসে মোবাইল ফোনসেট ব্যবসায়ীদের হামলা

বিশেষ-প্রতিনিধি
বিটিআরসি অফিসে মোবাইল ফোনসেট ব্যবসায়ীদের হামলা
বিটিআরসি অফিস ছবি সংগৃহীত

দেশে আমদানিকৃত মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি বিকেলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আগারগাঁও কার্যালয়ে হামলা করেছে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানার ওসি তদন্ত আজিজুর রহমান সিটিজেনসার্জান২৪কে বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি–দাওয়া ছিল। সেগুলো পুরণ না করায় তারা বিটিআরসি অফিসে হামলা চালিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে তিনিসহ একটি দল বিটিআরসি অফিসে যান। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, তারা আসরের নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের শব্দ শোনা যায়। পরে বিকেল ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

জানা গেছে, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ করে আসছিলেন মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা। সরকারের অভিযোগ, একটি অংশ অবৈধ পথে কর ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের, ক্লোনড, ব্যবহৃত ও পুরনো ফোন দেশে এনে বাজারজাত করছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করতেই হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে এনইআইআর চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার।

মোবাইল ফোনসেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এনইআইআর কার্যকর হলে অবৈধভাবে দেশে আসা ফোন আর ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা পুরনো ফোনের ব্যবসাও বন্ধ হবে। তবে এনইআইআর চালুর আগ পর্যন্ত নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কোনও ফোন বন্ধ করা হবে না।

এর আগে বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালুর ঘোষণা দেয়া হলেও ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে তা ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। গত ৭ ডিসেম্বর মোবাইল ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাও করে দিনভর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছিলেন।