শিরোনাম

মাইলস্টোনে বিমান দূর্ঘটনা

সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ৫ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ৫ দাবি
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

সরকার কর্তৃক ঘোষিত ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করেছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের সদস্যরা। তারা পাঁচটি দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

দাবিগুলো হলো- দুর্নীতির অভিযোগে দায়ীদের শাস্তি ও টাকা উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে; রিট পিটিশনে উল্লেখিত রুলের ক্ষতিপূরণ শহীদ পরিবারগুলোকে প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে; নিহত সবাইকে শহীদি মর্যাদা ও শহীদি সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে; ২১ জুলাইকে জাতীয় শিক্ষা দিবস ঘোষণা, উত্তরাতে একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স এবং শিশুদের কবর স্থায়ীভাবে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে; শহীদ পরিবারকে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২০২৫ সালের ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরা দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় ৩৬ জন প্রাণ হারান, যার ২৮ জনই শিক্ষার্থী। বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও দুর্ঘটনায় নিহত হন।

সংবাদ সম্মেলনে শহীদ পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘মাইলস্টোনে বিমান দূর্ঘটনার ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা তাৎক্ষনিকভাবে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন এবং গত বছরের ২২ জুলাই দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেন। এমনকি জাতিসংঘ, বিভিন্ন দেশ এবং আর্ন্তজাতিক ক্লাবসহ সারা বিশ্ব শোক বার্তা জানিয়েছেন। উক্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ন্যয় বিচার প্রাপ্তির লক্ষ্যে এ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান (রায়হান) ২২ জুলাই হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার নম্বর ১১৮৪২/২০২৫। উক্ত রিট পিটিশনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য একটি রুল জারি করেন। পরবর্তীতে আইন উপদেষ্টা এবং শিক্ষা উপদেষ্টা মাইলস্টোন স্কুল পরিদর্শন করলে স্থানীয় ছাত্র-জনতা শহীদ এবং আহত পরিবারের পক্ষে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করলে উল্লেখিত দাবিসমূহ উপদেষ্টাগণ মেনে নেয়। শহীদ এবং আহত পরিবারের জন্য দেশের মানুষ যে দাবি করেন এবং জনস্বার্থে যে রিট পিটিশন দায়ের করা হয় তার রুলের সাথে সম্মতি জ্ঞাপন করে শহীদ ও আহত পরিবার ২ বার সংবাদ সম্মেলন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে দাবি, স্থানীয় ছাত্র-জনতার দাবি, হাইকোর্টের রুল এবং উপদেষ্টগনের মৌখিক প্রতিশ্রুতি অদ্যাবধি বাস্তবায়ন করা হয়নি।’

আরও বলা হয়, ‘গতবছরের ৫ নভেম্বর ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমতাবস্থায়, বিভিন্ন সময়ে আমাদের লিখিত দাবিসমূহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর বা প্রতিষ্ঠানকে প্রদানের প্রেক্ষিতে গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের এর অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারকে ২০ লাখ এবং আহতদের ৫ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষনা দিলে আমরা শহীদ এবং আহত পরিবারবর্গ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তা প্রত্যাখান করি। পরবর্তীতে গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি যে, প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি এবং প্রত্যেক আহতদের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপুরণ দেয়ার বিষয়ে উপদেষ্টাদের মিটিং-এ উপস্থাপন করা হবে মর্মে জানানো হয়। আমরা শহীদ পরিবার উক্ত ক্ষতিপুরণ প্রত্যাখান করছি।’

শহীদ পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, আশরাফুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম, মো. রফিক মোল্লা, উসাই মং মারমা প্রমুখ।

এমএইচএম/টিই/