একুশ শতকের প্রথম ২৫ বছরে সেরা ক্রীড়াবিদ মেসি, তালিকায় আরও যারা

একুশ শতকের প্রথম ২৫ বছরে সেরা ক্রীড়াবিদ মেসি, তালিকায় আরও যারা
স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৫ সাল সমাপ্তির মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর এক–চতুর্থাংশ শেষ হতে চলেছে। গেল ২৫ বছরে ক্রীড়াবিদের কীর্তি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নতুন শতাব্দীর প্রথম এক-চতুর্থাংশে ‘সেরাদের মধ্যে সেরা’ কে এ প্রশ্ন উঠতেই পারে।
প্রত্যেক ক্রীড়াবিদই নিজ নিজ খেলায় নানাভাবে আধিপত্য দেখিয়েছেন। তবু গেল ২৫ বছরের সেরা ২৫ ক্রীড়াবিদের একটি র্যাঙ্কিং করেছে ফরাসি ভাষার কানাডীয় গণমাধ্যম লে জার্নাল কুইবেক।
ক্রীড়াবিদের অর্জন, রেকর্ড, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব, প্রজন্মগত অনুপ্রেরণা আর খেলাধুলার বাইরে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় এ তালিকা।
লিওনেল মেসি (ফুটবল)
বিশ্বজুড়ে ফুটবলের মতো আবেগ জাগানো খেলা আর নেই। মেসি তার প্রজন্মে নিঃসন্দেহে সেরা। কেউ কেউ তাকে সর্বকালের সেরাও বলেন। আর্জেন্টাইন এই মহাতারকার অর্জনের শেষ নেই। ১০টি লা লিগা ও ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা, আটবার ব্যালন ডি’অর। আর্জেন্টিনা ও এফসি বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে আরও জনপ্রিয় হয় ওঠেন।
টম ব্র্যাডি (আমেরিকান ফুটবল)
আমেরিকান ফুটবলকে সবচেয়ে দলনির্ভর খেলা বলা হয়, কিন্তু ব্যক্তিগত প্রভাবের দিক থেকে টম ব্র্যাডির সমকক্ষ কেউ নেই। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের হয়ে ২০ বছর এবং টাম্পা বে বুকানিয়ার্সের হয়ে তিন বছরে তিনি জিতেছেন সাতটি সুপার বোল। তার আগে কোনো কোয়ার্টারব্যাক চারটির বেশি জিতেনি।
মাইকেল ফেলপস (সাঁতার)
যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু মাইকেল ফেলপস ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে জিতেছেন ২৮টি অলিম্পিক পদক, যার মধ্যে ২৩টিই স্বর্ণ। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে ফেলপসের আটটি স্বর্ণ সব খেলাধুলা মিলিয়েই অলিম্পিকের এক আসরে সর্বোচ্চ। ওই আসরেই তিনি গড়েছিলেন সাতটি বিশ্ব রেকর্ড। সাঁতারের বৈশ্বিক প্রভাব অন্য খেলাগুলোর মতো না হলেও ফেলপস নিজের খেলাকে ছাড়িয়ে গেছেন।
সেরেনা উইলিয়ামস (টেনিস)
সামগ্রিকভাবে খেলাধুলায় এবং কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের ওপর টেনিস মহাতারকা সেরেনা উইলিয়ামসের অনেক প্রভাব। যুক্তরাষ্ট্রের এই টেনিসকন্যা আইকনে পরিণত হয়েছেন, বড় বড় বিজ্ঞাপন প্রচারণায় তার উপস্থিতি বিশ্বব্যাপী তারকায় পরিণত করেছে। টেনিসে তিনি ৩১৯ সপ্তাহ ছিলেন ডব্লিউটিএ র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে, জিতেছেন ৭৩ শিরোপা, যার মধ্যে ২৩ একক গ্র্যান্ড স্লাম।
উসাইন বোল্ট (অ্যাথলেটিকস)
উসাইন বোল্ট যে ইতিহাসের সেরা স্প্রিন্টার, তা নিয়ে সন্দেহ থাকার কথা নয়। অনেক দুর্দান্ত স্প্রিন্টার এসেছেন, আছেন, কিন্তু বোল্ট সবার চেয়ে ব্যতিক্রম। জ্যামাইকান এই দৌড়বিদ অলিম্পিকে জিতেছেন আটটি স্বর্ণ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ১১ বার। ২০০৯ সালে ১০০ মিটারে তার ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড এখনো অটুট। টানা তিন অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটার দুই ইভেন্টেই সোনা জেতা একমাত্র স্প্রিন্টার তিনি।
লেব্রন জেমস (বাস্কেটবল)
২০০০ থেকে ২০২৫ সময়কালে লেব্রন জেমস বাস্কেটবলে সবার চেয়ে এগিয়ে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যক্তিগতভাবে তিনি এনবিএ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রাহক, জিতেছেন চারটি এমভিপি পুরস্কার, ২০ বার ছিলেন অল-স্টার দলে। দলগতভাবে চারটি এনবিএ ফাইনাল জিতেছেন লেব্রন, প্রতিবারই হয়েছেন ফাইনালস এমভিপি।
নোভাক জোকোভিচ (টেনিস)
রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদালের আধিপত্যের যুগে নিজেকে প্রমাণ করাই নয়, বরং অর্জনের দিক থেকে তাদেরও ছাড়িয়ে গেছেন সার্বিয়ান তারকা নোভাক জোকোভিচ। রেকর্ড ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন। ক্যারিয়ারে রেকর্ড ৪২৮ সপ্তাহ জোকোভিচ এটিপি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন, আটবার বছর শেষ করেছেন সেরা হিসেবে।
সিমোন বাইলস (জিমন্যাস্টিকস)
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোট ৪১ পদক জিতে ইতিহাসের সফল জিমন্যাস্ট সিমোন বাইলস। যার মধ্যে ৩০টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে, ১১টি অলিম্পিকে। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে চারটি স্বর্ণপদক জিতে তিনি বৈশ্বিক তারকায় পরিণত হন। তার আধিপত্য এতটাই প্রবল যে এখন পাঁচটি জিমন্যাস্টিক কৌশল তার নামেই পরিচিত।
কোবে ব্রায়ান্ট (বাস্কেটবল)
২০২০ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত কোবে ব্রায়ান্ট বাস্কেটবলপ্রেমীদের একটি প্রজন্মকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের হয়ে তিনি জিতেছেন পাঁচটি এনবিএ শিরোপা, জায়গা করে নিয়েছেন ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের কাতারে। ব্রায়ান্ট দুবার ফাইনালস এমভিপি হয়েছেন।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (ফুটবল)
ফিফা বিশ্বকাপ জেতা বাদে ফুটবলের বাকি সব শীর্ষ প্রতিযোগিতায় অবিশ্বাস্য অর্জন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা এই পর্তুগিজ তারকা যেখানে খেলেছেন, সেখানেই দারুণ সব রেকর্ড গড়েছেন। পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, তিনটি প্রিমিয়ার লিগ আর দুটি লা লিগা শিরোপাসহ আরও শিরোপা জিতেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ ১৪০ গোল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের রেকর্ড রোনালদোর দখলে। বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি চারটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ১০০টির বেশি গোল করেছেন।
শীর্ষ দশের পর যারা আছেন- টাইগার উডস (১১), রজার ফেদেরার (১২), রাফায়েল নাদাল (১৩), স্টিফেন কারি (১৪), লুইস হ্যামিল্টন (১৫), কেটি লেডেকি (১৬), ফ্লয়েড মেওয়েদার (১৭), সিডনি ক্রসবি (১৮), মিকায়েল কিংসবুরি (১৯), মাইকেল শুমাখার (২০), সোহেই ওতানি (২১), মিকায়েলা শিফরিন (২২), প্যাট্রিক মোহামেস (২৩), আলেক্সান্ডার ওভেচকিন (২৪) ও মার্তা দ্য সিলভা (২৫)।

২০২৫ সাল সমাপ্তির মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর এক–চতুর্থাংশ শেষ হতে চলেছে। গেল ২৫ বছরে ক্রীড়াবিদের কীর্তি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নতুন শতাব্দীর প্রথম এক-চতুর্থাংশে ‘সেরাদের মধ্যে সেরা’ কে এ প্রশ্ন উঠতেই পারে।
প্রত্যেক ক্রীড়াবিদই নিজ নিজ খেলায় নানাভাবে আধিপত্য দেখিয়েছেন। তবু গেল ২৫ বছরের সেরা ২৫ ক্রীড়াবিদের একটি র্যাঙ্কিং করেছে ফরাসি ভাষার কানাডীয় গণমাধ্যম লে জার্নাল কুইবেক।
ক্রীড়াবিদের অর্জন, রেকর্ড, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব, প্রজন্মগত অনুপ্রেরণা আর খেলাধুলার বাইরে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় এ তালিকা।
লিওনেল মেসি (ফুটবল)
বিশ্বজুড়ে ফুটবলের মতো আবেগ জাগানো খেলা আর নেই। মেসি তার প্রজন্মে নিঃসন্দেহে সেরা। কেউ কেউ তাকে সর্বকালের সেরাও বলেন। আর্জেন্টাইন এই মহাতারকার অর্জনের শেষ নেই। ১০টি লা লিগা ও ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা, আটবার ব্যালন ডি’অর। আর্জেন্টিনা ও এফসি বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে আরও জনপ্রিয় হয় ওঠেন।
টম ব্র্যাডি (আমেরিকান ফুটবল)
আমেরিকান ফুটবলকে সবচেয়ে দলনির্ভর খেলা বলা হয়, কিন্তু ব্যক্তিগত প্রভাবের দিক থেকে টম ব্র্যাডির সমকক্ষ কেউ নেই। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের হয়ে ২০ বছর এবং টাম্পা বে বুকানিয়ার্সের হয়ে তিন বছরে তিনি জিতেছেন সাতটি সুপার বোল। তার আগে কোনো কোয়ার্টারব্যাক চারটির বেশি জিতেনি।
মাইকেল ফেলপস (সাঁতার)
যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু মাইকেল ফেলপস ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে জিতেছেন ২৮টি অলিম্পিক পদক, যার মধ্যে ২৩টিই স্বর্ণ। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে ফেলপসের আটটি স্বর্ণ সব খেলাধুলা মিলিয়েই অলিম্পিকের এক আসরে সর্বোচ্চ। ওই আসরেই তিনি গড়েছিলেন সাতটি বিশ্ব রেকর্ড। সাঁতারের বৈশ্বিক প্রভাব অন্য খেলাগুলোর মতো না হলেও ফেলপস নিজের খেলাকে ছাড়িয়ে গেছেন।
সেরেনা উইলিয়ামস (টেনিস)
সামগ্রিকভাবে খেলাধুলায় এবং কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের ওপর টেনিস মহাতারকা সেরেনা উইলিয়ামসের অনেক প্রভাব। যুক্তরাষ্ট্রের এই টেনিসকন্যা আইকনে পরিণত হয়েছেন, বড় বড় বিজ্ঞাপন প্রচারণায় তার উপস্থিতি বিশ্বব্যাপী তারকায় পরিণত করেছে। টেনিসে তিনি ৩১৯ সপ্তাহ ছিলেন ডব্লিউটিএ র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে, জিতেছেন ৭৩ শিরোপা, যার মধ্যে ২৩ একক গ্র্যান্ড স্লাম।
উসাইন বোল্ট (অ্যাথলেটিকস)
উসাইন বোল্ট যে ইতিহাসের সেরা স্প্রিন্টার, তা নিয়ে সন্দেহ থাকার কথা নয়। অনেক দুর্দান্ত স্প্রিন্টার এসেছেন, আছেন, কিন্তু বোল্ট সবার চেয়ে ব্যতিক্রম। জ্যামাইকান এই দৌড়বিদ অলিম্পিকে জিতেছেন আটটি স্বর্ণ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ১১ বার। ২০০৯ সালে ১০০ মিটারে তার ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড এখনো অটুট। টানা তিন অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটার দুই ইভেন্টেই সোনা জেতা একমাত্র স্প্রিন্টার তিনি।
লেব্রন জেমস (বাস্কেটবল)
২০০০ থেকে ২০২৫ সময়কালে লেব্রন জেমস বাস্কেটবলে সবার চেয়ে এগিয়ে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যক্তিগতভাবে তিনি এনবিএ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রাহক, জিতেছেন চারটি এমভিপি পুরস্কার, ২০ বার ছিলেন অল-স্টার দলে। দলগতভাবে চারটি এনবিএ ফাইনাল জিতেছেন লেব্রন, প্রতিবারই হয়েছেন ফাইনালস এমভিপি।
নোভাক জোকোভিচ (টেনিস)
রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদালের আধিপত্যের যুগে নিজেকে প্রমাণ করাই নয়, বরং অর্জনের দিক থেকে তাদেরও ছাড়িয়ে গেছেন সার্বিয়ান তারকা নোভাক জোকোভিচ। রেকর্ড ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন। ক্যারিয়ারে রেকর্ড ৪২৮ সপ্তাহ জোকোভিচ এটিপি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন, আটবার বছর শেষ করেছেন সেরা হিসেবে।
সিমোন বাইলস (জিমন্যাস্টিকস)
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোট ৪১ পদক জিতে ইতিহাসের সফল জিমন্যাস্ট সিমোন বাইলস। যার মধ্যে ৩০টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে, ১১টি অলিম্পিকে। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে চারটি স্বর্ণপদক জিতে তিনি বৈশ্বিক তারকায় পরিণত হন। তার আধিপত্য এতটাই প্রবল যে এখন পাঁচটি জিমন্যাস্টিক কৌশল তার নামেই পরিচিত।
কোবে ব্রায়ান্ট (বাস্কেটবল)
২০২০ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত কোবে ব্রায়ান্ট বাস্কেটবলপ্রেমীদের একটি প্রজন্মকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের হয়ে তিনি জিতেছেন পাঁচটি এনবিএ শিরোপা, জায়গা করে নিয়েছেন ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের কাতারে। ব্রায়ান্ট দুবার ফাইনালস এমভিপি হয়েছেন।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (ফুটবল)
ফিফা বিশ্বকাপ জেতা বাদে ফুটবলের বাকি সব শীর্ষ প্রতিযোগিতায় অবিশ্বাস্য অর্জন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা এই পর্তুগিজ তারকা যেখানে খেলেছেন, সেখানেই দারুণ সব রেকর্ড গড়েছেন। পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, তিনটি প্রিমিয়ার লিগ আর দুটি লা লিগা শিরোপাসহ আরও শিরোপা জিতেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ ১৪০ গোল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের রেকর্ড রোনালদোর দখলে। বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি চারটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ১০০টির বেশি গোল করেছেন।
শীর্ষ দশের পর যারা আছেন- টাইগার উডস (১১), রজার ফেদেরার (১২), রাফায়েল নাদাল (১৩), স্টিফেন কারি (১৪), লুইস হ্যামিল্টন (১৫), কেটি লেডেকি (১৬), ফ্লয়েড মেওয়েদার (১৭), সিডনি ক্রসবি (১৮), মিকায়েল কিংসবুরি (১৯), মাইকেল শুমাখার (২০), সোহেই ওতানি (২১), মিকায়েলা শিফরিন (২২), প্যাট্রিক মোহামেস (২৩), আলেক্সান্ডার ওভেচকিন (২৪) ও মার্তা দ্য সিলভা (২৫)।

একুশ শতকের প্রথম ২৫ বছরে সেরা ক্রীড়াবিদ মেসি, তালিকায় আরও যারা
স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৫ সাল সমাপ্তির মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর এক–চতুর্থাংশ শেষ হতে চলেছে। গেল ২৫ বছরে ক্রীড়াবিদের কীর্তি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নতুন শতাব্দীর প্রথম এক-চতুর্থাংশে ‘সেরাদের মধ্যে সেরা’ কে এ প্রশ্ন উঠতেই পারে।
প্রত্যেক ক্রীড়াবিদই নিজ নিজ খেলায় নানাভাবে আধিপত্য দেখিয়েছেন। তবু গেল ২৫ বছরের সেরা ২৫ ক্রীড়াবিদের একটি র্যাঙ্কিং করেছে ফরাসি ভাষার কানাডীয় গণমাধ্যম লে জার্নাল কুইবেক।
ক্রীড়াবিদের অর্জন, রেকর্ড, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব, প্রজন্মগত অনুপ্রেরণা আর খেলাধুলার বাইরে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় এ তালিকা।
লিওনেল মেসি (ফুটবল)
বিশ্বজুড়ে ফুটবলের মতো আবেগ জাগানো খেলা আর নেই। মেসি তার প্রজন্মে নিঃসন্দেহে সেরা। কেউ কেউ তাকে সর্বকালের সেরাও বলেন। আর্জেন্টাইন এই মহাতারকার অর্জনের শেষ নেই। ১০টি লা লিগা ও ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা, আটবার ব্যালন ডি’অর। আর্জেন্টিনা ও এফসি বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে আরও জনপ্রিয় হয় ওঠেন।
টম ব্র্যাডি (আমেরিকান ফুটবল)
আমেরিকান ফুটবলকে সবচেয়ে দলনির্ভর খেলা বলা হয়, কিন্তু ব্যক্তিগত প্রভাবের দিক থেকে টম ব্র্যাডির সমকক্ষ কেউ নেই। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের হয়ে ২০ বছর এবং টাম্পা বে বুকানিয়ার্সের হয়ে তিন বছরে তিনি জিতেছেন সাতটি সুপার বোল। তার আগে কোনো কোয়ার্টারব্যাক চারটির বেশি জিতেনি।
মাইকেল ফেলপস (সাঁতার)
যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু মাইকেল ফেলপস ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে জিতেছেন ২৮টি অলিম্পিক পদক, যার মধ্যে ২৩টিই স্বর্ণ। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে ফেলপসের আটটি স্বর্ণ সব খেলাধুলা মিলিয়েই অলিম্পিকের এক আসরে সর্বোচ্চ। ওই আসরেই তিনি গড়েছিলেন সাতটি বিশ্ব রেকর্ড। সাঁতারের বৈশ্বিক প্রভাব অন্য খেলাগুলোর মতো না হলেও ফেলপস নিজের খেলাকে ছাড়িয়ে গেছেন।
সেরেনা উইলিয়ামস (টেনিস)
সামগ্রিকভাবে খেলাধুলায় এবং কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের ওপর টেনিস মহাতারকা সেরেনা উইলিয়ামসের অনেক প্রভাব। যুক্তরাষ্ট্রের এই টেনিসকন্যা আইকনে পরিণত হয়েছেন, বড় বড় বিজ্ঞাপন প্রচারণায় তার উপস্থিতি বিশ্বব্যাপী তারকায় পরিণত করেছে। টেনিসে তিনি ৩১৯ সপ্তাহ ছিলেন ডব্লিউটিএ র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে, জিতেছেন ৭৩ শিরোপা, যার মধ্যে ২৩ একক গ্র্যান্ড স্লাম।
উসাইন বোল্ট (অ্যাথলেটিকস)
উসাইন বোল্ট যে ইতিহাসের সেরা স্প্রিন্টার, তা নিয়ে সন্দেহ থাকার কথা নয়। অনেক দুর্দান্ত স্প্রিন্টার এসেছেন, আছেন, কিন্তু বোল্ট সবার চেয়ে ব্যতিক্রম। জ্যামাইকান এই দৌড়বিদ অলিম্পিকে জিতেছেন আটটি স্বর্ণ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ১১ বার। ২০০৯ সালে ১০০ মিটারে তার ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড এখনো অটুট। টানা তিন অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটার দুই ইভেন্টেই সোনা জেতা একমাত্র স্প্রিন্টার তিনি।
লেব্রন জেমস (বাস্কেটবল)
২০০০ থেকে ২০২৫ সময়কালে লেব্রন জেমস বাস্কেটবলে সবার চেয়ে এগিয়ে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যক্তিগতভাবে তিনি এনবিএ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রাহক, জিতেছেন চারটি এমভিপি পুরস্কার, ২০ বার ছিলেন অল-স্টার দলে। দলগতভাবে চারটি এনবিএ ফাইনাল জিতেছেন লেব্রন, প্রতিবারই হয়েছেন ফাইনালস এমভিপি।
নোভাক জোকোভিচ (টেনিস)
রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদালের আধিপত্যের যুগে নিজেকে প্রমাণ করাই নয়, বরং অর্জনের দিক থেকে তাদেরও ছাড়িয়ে গেছেন সার্বিয়ান তারকা নোভাক জোকোভিচ। রেকর্ড ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন। ক্যারিয়ারে রেকর্ড ৪২৮ সপ্তাহ জোকোভিচ এটিপি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন, আটবার বছর শেষ করেছেন সেরা হিসেবে।
সিমোন বাইলস (জিমন্যাস্টিকস)
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোট ৪১ পদক জিতে ইতিহাসের সফল জিমন্যাস্ট সিমোন বাইলস। যার মধ্যে ৩০টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে, ১১টি অলিম্পিকে। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে চারটি স্বর্ণপদক জিতে তিনি বৈশ্বিক তারকায় পরিণত হন। তার আধিপত্য এতটাই প্রবল যে এখন পাঁচটি জিমন্যাস্টিক কৌশল তার নামেই পরিচিত।
কোবে ব্রায়ান্ট (বাস্কেটবল)
২০২০ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত কোবে ব্রায়ান্ট বাস্কেটবলপ্রেমীদের একটি প্রজন্মকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের হয়ে তিনি জিতেছেন পাঁচটি এনবিএ শিরোপা, জায়গা করে নিয়েছেন ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের কাতারে। ব্রায়ান্ট দুবার ফাইনালস এমভিপি হয়েছেন।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (ফুটবল)
ফিফা বিশ্বকাপ জেতা বাদে ফুটবলের বাকি সব শীর্ষ প্রতিযোগিতায় অবিশ্বাস্য অর্জন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা এই পর্তুগিজ তারকা যেখানে খেলেছেন, সেখানেই দারুণ সব রেকর্ড গড়েছেন। পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, তিনটি প্রিমিয়ার লিগ আর দুটি লা লিগা শিরোপাসহ আরও শিরোপা জিতেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ ১৪০ গোল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের রেকর্ড রোনালদোর দখলে। বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি চারটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ১০০টির বেশি গোল করেছেন।
শীর্ষ দশের পর যারা আছেন- টাইগার উডস (১১), রজার ফেদেরার (১২), রাফায়েল নাদাল (১৩), স্টিফেন কারি (১৪), লুইস হ্যামিল্টন (১৫), কেটি লেডেকি (১৬), ফ্লয়েড মেওয়েদার (১৭), সিডনি ক্রসবি (১৮), মিকায়েল কিংসবুরি (১৯), মাইকেল শুমাখার (২০), সোহেই ওতানি (২১), মিকায়েলা শিফরিন (২২), প্যাট্রিক মোহামেস (২৩), আলেক্সান্ডার ওভেচকিন (২৪) ও মার্তা দ্য সিলভা (২৫)।




