বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই কি উত্তরায় ভবনে অগ্নিকাণ্ড

বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই কি উত্তরায় ভবনে অগ্নিকাণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরার বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ঘটেছে। ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দাউ দাউ আগুন ও ছাদের গেট তালাবদ্ধ থাকার কারণে ৬ জন নিহত ও ১০ জনের বেশি আহতের ঘটনা ঘটেছে বলে সিটিজেন জার্নালের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাসার ছয় তলা ভবনে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) ও তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২) এবং হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তারের (১৪) মৃত্যু হয়।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটি দেখতে আশপাশের মানুষ ও ইউটিউবাররা ভীড় জমিয়েছেন। কেউ উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন, আবার কেউ ছবি তোলা ও ভিডিও করায় ব্যস্ত। দুই দিন আগেও ভবনটি কোলাহলপূর্ণ ছিল। এখন শুনশান নীরব। ভেতর থেকে একটু একটু ধোয়া বের হচ্ছে। আশপাশে পোড়া গন্ধ। ভবনে সবাই অন্যত্র চলে গেছেন। কেয়ারটেকার বিপ্লব মিয়া মূল ফটকে তালা দিয়ে পাহারা দিচ্ছেন।

ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সব আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে একাকার। ধোঁয়ায় কারণে চতুর্থ তলায় কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পঞ্চম, ষষ্ঠ তলায় উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি।
ভবনের উপরে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার নেই। নিচতলার পার্কিংয়ে ১০-১২টি গ্যাস সিলিন্ডার। তবে কোনোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এসব গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই লাইনের মাধ্যমে গ্যাস বিভিন্ন ফ্লাটে সরবরাহ করা হতো। আগুনের সূত্রপাত দ্বিতীয় তলায়। সেখানে কোনো গ্যাস সিলিন্ডারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকতেন বাড়ির মালিক জুয়েল মোল্লা। চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় দুটো করে ফ্ল্যাট। সেগুলো ভাড়া দেওয়া হয়। বাড়ির মালিক জুয়েল মোল্লা ‘মিস্টার বেকার’-এর মালিক। তার বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। তিনিও ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাড়ির সামনে উৎসুক জনতার একজন রিকশাচালক মোহাম্মদ রহমান। তিনি বলেন, ‘উত্তরাতেই রিকশা চালাই। যে বাড়িতে এত বড় ঘটনা ঘটেছে, সে বাড়িটি নিজ চোখে দেখতে আসছি।’

ভবনটির পঞ্চম তলার ডান পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মো. নিজাম উদ্দিন মালাপত্র অন্যত্র সরানোর জন্য এসেছেন। তিনি সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের সময় আমি বাইরে ছিলাম। বাসায় স্ত্রী-সন্তানরা ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা টয়েলেটের ভেতরে দরজা লাগিয়ে বসে ছিল। তাই আল্লাহ্র রহমতে তারা বেঁচে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মাইকে যখন ডাকাডাকি করছিলো, তখন তারা বেরিয়ে আসে। এরপর তাদের উদ্ধার করা হয়।’
নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমার পাশের ফ্ল্যাটে থাকতেন ফার্মাসিউটিক্যালসে জব করা কাজী ফজলে রাব্বী রিজভী ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা দম্পতি। তাদের সন্তান কাজী ফায়াজ রিশান। আমার উপরের ফ্ল্যাটে থাকতেন ফল ব্যবসায়ী হারিছ উদ্দিন ও তার স্বজনরা। তারাই ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউটিউবার বলেন, ‘সবাই উত্তরার আগুনের খবর নিয়ে ব্যস্ত। তাই আমিও এসেছি।’
বাড়িটির কেয়ারটেকার বিপ্লব মিয়া সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘বাসা এখন পুরো ফাঁকা। আমি ও সেক্টর কল্যাণ সমিতির লোক পাহারা দিচ্ছি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন শুধু ধোঁয়া বের হচ্ছে। বাকি সব ফ্লোরের মালামাল ঠিক আছে।’
ছাদের গেটের দরজার তালা লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের আগের দিন বিকালে আমি নিজেই তালা লাগিয়ে এসেছিলাম। পরে আর বলতে পারবো না। বাসার মালিকও ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।’

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি।’
জানতে চাইলে উত্তরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলম হোসেন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘দ্বিতীয় তলার বেড রুম থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।’
হতাহতের বিষয়ে আলম হোসেন বলেন, ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আগুন ছিল। যারা প্রথমেই টের পেয়েছে, তারা বেরিয়ে যেতে পেরেছে। পরে আর লোকজন বের হতে পারেনি। ছাদে তালা মারা ছিল। আর নিচে আগুন। মাঝে আটকা পড়ে ধোয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন।’
নিহতের ঘটনায় পুলিশের জিডি
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি কাজী মো. রফিক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাজনিত ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি একটি জিডি করে নোট রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এবং অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি
অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালককে সভাপতি, সহকারী পরিচালককে সদস্য সচিব এবং উত্তরা জোনের উপ-সহকারী পরিচালক, উত্তরার সিনিয়র স্টেশন অফিসার এবং একজন ইন্সপেক্টরকে সদস্য করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলম হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করবো। সম্ভব না হলে অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করবো।’

রাজধানীর উত্তরার বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ঘটেছে। ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দাউ দাউ আগুন ও ছাদের গেট তালাবদ্ধ থাকার কারণে ৬ জন নিহত ও ১০ জনের বেশি আহতের ঘটনা ঘটেছে বলে সিটিজেন জার্নালের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাসার ছয় তলা ভবনে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) ও তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২) এবং হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তারের (১৪) মৃত্যু হয়।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটি দেখতে আশপাশের মানুষ ও ইউটিউবাররা ভীড় জমিয়েছেন। কেউ উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন, আবার কেউ ছবি তোলা ও ভিডিও করায় ব্যস্ত। দুই দিন আগেও ভবনটি কোলাহলপূর্ণ ছিল। এখন শুনশান নীরব। ভেতর থেকে একটু একটু ধোয়া বের হচ্ছে। আশপাশে পোড়া গন্ধ। ভবনে সবাই অন্যত্র চলে গেছেন। কেয়ারটেকার বিপ্লব মিয়া মূল ফটকে তালা দিয়ে পাহারা দিচ্ছেন।

ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সব আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে একাকার। ধোঁয়ায় কারণে চতুর্থ তলায় কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পঞ্চম, ষষ্ঠ তলায় উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি।
ভবনের উপরে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার নেই। নিচতলার পার্কিংয়ে ১০-১২টি গ্যাস সিলিন্ডার। তবে কোনোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এসব গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই লাইনের মাধ্যমে গ্যাস বিভিন্ন ফ্লাটে সরবরাহ করা হতো। আগুনের সূত্রপাত দ্বিতীয় তলায়। সেখানে কোনো গ্যাস সিলিন্ডারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকতেন বাড়ির মালিক জুয়েল মোল্লা। চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় দুটো করে ফ্ল্যাট। সেগুলো ভাড়া দেওয়া হয়। বাড়ির মালিক জুয়েল মোল্লা ‘মিস্টার বেকার’-এর মালিক। তার বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। তিনিও ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাড়ির সামনে উৎসুক জনতার একজন রিকশাচালক মোহাম্মদ রহমান। তিনি বলেন, ‘উত্তরাতেই রিকশা চালাই। যে বাড়িতে এত বড় ঘটনা ঘটেছে, সে বাড়িটি নিজ চোখে দেখতে আসছি।’

ভবনটির পঞ্চম তলার ডান পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মো. নিজাম উদ্দিন মালাপত্র অন্যত্র সরানোর জন্য এসেছেন। তিনি সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের সময় আমি বাইরে ছিলাম। বাসায় স্ত্রী-সন্তানরা ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা টয়েলেটের ভেতরে দরজা লাগিয়ে বসে ছিল। তাই আল্লাহ্র রহমতে তারা বেঁচে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মাইকে যখন ডাকাডাকি করছিলো, তখন তারা বেরিয়ে আসে। এরপর তাদের উদ্ধার করা হয়।’
নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমার পাশের ফ্ল্যাটে থাকতেন ফার্মাসিউটিক্যালসে জব করা কাজী ফজলে রাব্বী রিজভী ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা দম্পতি। তাদের সন্তান কাজী ফায়াজ রিশান। আমার উপরের ফ্ল্যাটে থাকতেন ফল ব্যবসায়ী হারিছ উদ্দিন ও তার স্বজনরা। তারাই ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউটিউবার বলেন, ‘সবাই উত্তরার আগুনের খবর নিয়ে ব্যস্ত। তাই আমিও এসেছি।’
বাড়িটির কেয়ারটেকার বিপ্লব মিয়া সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘বাসা এখন পুরো ফাঁকা। আমি ও সেক্টর কল্যাণ সমিতির লোক পাহারা দিচ্ছি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন শুধু ধোঁয়া বের হচ্ছে। বাকি সব ফ্লোরের মালামাল ঠিক আছে।’
ছাদের গেটের দরজার তালা লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের আগের দিন বিকালে আমি নিজেই তালা লাগিয়ে এসেছিলাম। পরে আর বলতে পারবো না। বাসার মালিকও ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।’

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি।’
জানতে চাইলে উত্তরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলম হোসেন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘দ্বিতীয় তলার বেড রুম থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।’
হতাহতের বিষয়ে আলম হোসেন বলেন, ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আগুন ছিল। যারা প্রথমেই টের পেয়েছে, তারা বেরিয়ে যেতে পেরেছে। পরে আর লোকজন বের হতে পারেনি। ছাদে তালা মারা ছিল। আর নিচে আগুন। মাঝে আটকা পড়ে ধোয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন।’
নিহতের ঘটনায় পুলিশের জিডি
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি কাজী মো. রফিক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাজনিত ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি একটি জিডি করে নোট রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এবং অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি
অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালককে সভাপতি, সহকারী পরিচালককে সদস্য সচিব এবং উত্তরা জোনের উপ-সহকারী পরিচালক, উত্তরার সিনিয়র স্টেশন অফিসার এবং একজন ইন্সপেক্টরকে সদস্য করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলম হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করবো। সম্ভব না হলে অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করবো।’

বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই কি উত্তরায় ভবনে অগ্নিকাণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরার বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ঘটেছে। ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দাউ দাউ আগুন ও ছাদের গেট তালাবদ্ধ থাকার কারণে ৬ জন নিহত ও ১০ জনের বেশি আহতের ঘটনা ঘটেছে বলে সিটিজেন জার্নালের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাসার ছয় তলা ভবনে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) ও তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২) এবং হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তারের (১৪) মৃত্যু হয়।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটি দেখতে আশপাশের মানুষ ও ইউটিউবাররা ভীড় জমিয়েছেন। কেউ উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন, আবার কেউ ছবি তোলা ও ভিডিও করায় ব্যস্ত। দুই দিন আগেও ভবনটি কোলাহলপূর্ণ ছিল। এখন শুনশান নীরব। ভেতর থেকে একটু একটু ধোয়া বের হচ্ছে। আশপাশে পোড়া গন্ধ। ভবনে সবাই অন্যত্র চলে গেছেন। কেয়ারটেকার বিপ্লব মিয়া মূল ফটকে তালা দিয়ে পাহারা দিচ্ছেন।

ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সব আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে একাকার। ধোঁয়ায় কারণে চতুর্থ তলায় কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পঞ্চম, ষষ্ঠ তলায় উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি।
ভবনের উপরে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার নেই। নিচতলার পার্কিংয়ে ১০-১২টি গ্যাস সিলিন্ডার। তবে কোনোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এসব গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই লাইনের মাধ্যমে গ্যাস বিভিন্ন ফ্লাটে সরবরাহ করা হতো। আগুনের সূত্রপাত দ্বিতীয় তলায়। সেখানে কোনো গ্যাস সিলিন্ডারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকতেন বাড়ির মালিক জুয়েল মোল্লা। চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় দুটো করে ফ্ল্যাট। সেগুলো ভাড়া দেওয়া হয়। বাড়ির মালিক জুয়েল মোল্লা ‘মিস্টার বেকার’-এর মালিক। তার বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। তিনিও ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাড়ির সামনে উৎসুক জনতার একজন রিকশাচালক মোহাম্মদ রহমান। তিনি বলেন, ‘উত্তরাতেই রিকশা চালাই। যে বাড়িতে এত বড় ঘটনা ঘটেছে, সে বাড়িটি নিজ চোখে দেখতে আসছি।’

ভবনটির পঞ্চম তলার ডান পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মো. নিজাম উদ্দিন মালাপত্র অন্যত্র সরানোর জন্য এসেছেন। তিনি সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের সময় আমি বাইরে ছিলাম। বাসায় স্ত্রী-সন্তানরা ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা টয়েলেটের ভেতরে দরজা লাগিয়ে বসে ছিল। তাই আল্লাহ্র রহমতে তারা বেঁচে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মাইকে যখন ডাকাডাকি করছিলো, তখন তারা বেরিয়ে আসে। এরপর তাদের উদ্ধার করা হয়।’
নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমার পাশের ফ্ল্যাটে থাকতেন ফার্মাসিউটিক্যালসে জব করা কাজী ফজলে রাব্বী রিজভী ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা দম্পতি। তাদের সন্তান কাজী ফায়াজ রিশান। আমার উপরের ফ্ল্যাটে থাকতেন ফল ব্যবসায়ী হারিছ উদ্দিন ও তার স্বজনরা। তারাই ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউটিউবার বলেন, ‘সবাই উত্তরার আগুনের খবর নিয়ে ব্যস্ত। তাই আমিও এসেছি।’
বাড়িটির কেয়ারটেকার বিপ্লব মিয়া সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘বাসা এখন পুরো ফাঁকা। আমি ও সেক্টর কল্যাণ সমিতির লোক পাহারা দিচ্ছি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন শুধু ধোঁয়া বের হচ্ছে। বাকি সব ফ্লোরের মালামাল ঠিক আছে।’
ছাদের গেটের দরজার তালা লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের আগের দিন বিকালে আমি নিজেই তালা লাগিয়ে এসেছিলাম। পরে আর বলতে পারবো না। বাসার মালিকও ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।’

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি।’
জানতে চাইলে উত্তরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলম হোসেন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘দ্বিতীয় তলার বেড রুম থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।’
হতাহতের বিষয়ে আলম হোসেন বলেন, ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আগুন ছিল। যারা প্রথমেই টের পেয়েছে, তারা বেরিয়ে যেতে পেরেছে। পরে আর লোকজন বের হতে পারেনি। ছাদে তালা মারা ছিল। আর নিচে আগুন। মাঝে আটকা পড়ে ধোয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন।’
নিহতের ঘটনায় পুলিশের জিডি
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি কাজী মো. রফিক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাজনিত ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি একটি জিডি করে নোট রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এবং অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি
অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালককে সভাপতি, সহকারী পরিচালককে সদস্য সচিব এবং উত্তরা জোনের উপ-সহকারী পরিচালক, উত্তরার সিনিয়র স্টেশন অফিসার এবং একজন ইন্সপেক্টরকে সদস্য করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলম হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করবো। সম্ভব না হলে অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করবো।’




