হাদি হত্যা: চার্জশিটের শুনানি পেছালো, তিন আইনজীবী নিয়োগ

হাদি হত্যা: চার্জশিটের শুনানি পেছালো, তিন আইনজীবী নিয়োগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত শুনানি পিছিয়েছে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তা করার জন্য প্রসিকিউশনে তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা মামলার চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য সময় চাইলে আদালত শুনানির জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার লক্ষ্যে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবীরা হলেন– আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম ও সহকারী এটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে আদালতে আসেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, শান্তা আক্তারসহ অনেকে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমালোচনার জেরে হাদিকে হত্যা করার মূল কারণ চিহ্নিত করে গত ৭ জানুয়ারি আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মতিঝিল ডোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।
চার্জশিটে বলা হয়, ঘটনার তদন্তে ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল ও প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে হত্যার ঘটনায় ১৭ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে পাঁচজনকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন– হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে যুবলীগের পল্লবী থানার সভাপতি ও উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, হাদিকে সরাসরি গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তাকে সহযোগীতাকারী আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন, ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও ফিলিপ স্নাল (৩২)।
মামলার ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন, সঞ্জয়, আমিনুল ইসলাম রাজু ও নরসিংদীর ফয়সাল।
ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, সঞ্জয় ও ফয়সাল ফৌজদারি কার্যবিধি-র ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সবাই কারাগারে আছেন।
এছাড়া অটোরিকশা চালক কামাল হোসেন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধি-র ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে দণ্ডবিধির ১২০(বি), ৩০২,২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সে এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আটটি ব্যাংক একাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। জমা থাকা সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত শুনানি পিছিয়েছে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তা করার জন্য প্রসিকিউশনে তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা মামলার চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য সময় চাইলে আদালত শুনানির জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার লক্ষ্যে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবীরা হলেন– আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম ও সহকারী এটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে আদালতে আসেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, শান্তা আক্তারসহ অনেকে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমালোচনার জেরে হাদিকে হত্যা করার মূল কারণ চিহ্নিত করে গত ৭ জানুয়ারি আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মতিঝিল ডোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।
চার্জশিটে বলা হয়, ঘটনার তদন্তে ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল ও প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে হত্যার ঘটনায় ১৭ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে পাঁচজনকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন– হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে যুবলীগের পল্লবী থানার সভাপতি ও উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, হাদিকে সরাসরি গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তাকে সহযোগীতাকারী আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন, ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও ফিলিপ স্নাল (৩২)।
মামলার ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন, সঞ্জয়, আমিনুল ইসলাম রাজু ও নরসিংদীর ফয়সাল।
ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, সঞ্জয় ও ফয়সাল ফৌজদারি কার্যবিধি-র ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সবাই কারাগারে আছেন।
এছাড়া অটোরিকশা চালক কামাল হোসেন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধি-র ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে দণ্ডবিধির ১২০(বি), ৩০২,২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সে এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আটটি ব্যাংক একাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। জমা থাকা সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

হাদি হত্যা: চার্জশিটের শুনানি পেছালো, তিন আইনজীবী নিয়োগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত শুনানি পিছিয়েছে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তা করার জন্য প্রসিকিউশনে তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা মামলার চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য সময় চাইলে আদালত শুনানির জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার লক্ষ্যে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবীরা হলেন– আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম ও সহকারী এটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে আদালতে আসেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, শান্তা আক্তারসহ অনেকে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমালোচনার জেরে হাদিকে হত্যা করার মূল কারণ চিহ্নিত করে গত ৭ জানুয়ারি আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মতিঝিল ডোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।
চার্জশিটে বলা হয়, ঘটনার তদন্তে ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল ও প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে হত্যার ঘটনায় ১৭ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে পাঁচজনকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন– হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে যুবলীগের পল্লবী থানার সভাপতি ও উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, হাদিকে সরাসরি গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তাকে সহযোগীতাকারী আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন, ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও ফিলিপ স্নাল (৩২)।
মামলার ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন, সঞ্জয়, আমিনুল ইসলাম রাজু ও নরসিংদীর ফয়সাল।
ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, সঞ্জয় ও ফয়সাল ফৌজদারি কার্যবিধি-র ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সবাই কারাগারে আছেন।
এছাড়া অটোরিকশা চালক কামাল হোসেন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধি-র ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে দণ্ডবিধির ১২০(বি), ৩০২,২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সে এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আটটি ব্যাংক একাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। জমা থাকা সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।




