নিয়োগ ক্ষমতা পাচ্ছে এনটিআরসিএ
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হচ্ছে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদ

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হচ্ছে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদ
সিটিজেন-ডেস্ক

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা ম্যানেজিং কমিটির হাত থেকে এসব শীর্ষ পদের নিয়োগ ক্ষমতা সরিয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ৫০ নম্বরের পরিবর্তে ১০০ নম্বরের পরীক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬’ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করবে এনটিআরসিএ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে করে নিয়োগ-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বড় একটি ক্ষেত্র ছিল শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ। ২০১৫ সাল থেকে সাধারণ শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে হওয়ায় সেখানে অনিয়ম অনেকাংশে কমেছে। তবে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকায় এসব পদে ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল নিয়মিত। অনেক প্রতিষ্ঠানে এসব পদের জন্য ৫০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের কথাও উঠে এসেছে।
নিয়োগে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়– এর মধ্যে লিখিত ৩০, মৌখিক ৮ ও সনদে ১২ নম্বর। নতুন নীতিমালায় এই কাঠামো বদলে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত বা বাছাই পরীক্ষায় থাকবে ৮০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে ১২ এবং মৌখিকে ৮ নম্বর। ছয়টি পৃথক বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীর প্রশাসনিক দক্ষতা, একাডেমিক যোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণ মূল্যায়ন করা হবে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তর থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হলেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এনটিআরসিএ। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীদের মোট নম্বরের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ পেতে হবে। লিখিত, সনদ ও মৌখিক– এই তিন ধাপের নম্বর যোগ করে জাতীয় মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। সেখান থেকেই শূন্য পদে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হবে।
এখন পর্যন্ত প্রচলিত ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও বোর্ড গঠন করত। নিয়োগ বোর্ডে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি থাকলেও বাস্তবে কমিটির সভাপতির ইচ্ছাই মুখ্য হয়ে উঠত– এমন অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। কোথাও লিখিত ও মৌখিকে কম নম্বর পেয়েও নিয়োগ পাওয়ার নজির আছে। নতুন নীতিমালায় সব পরীক্ষা, ফলাফল ও চূড়ান্ত সুপারিশ পুরোপুরি এনটিআরসিএর হাতে থাকবে এবং তা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পদ্ধতি কার্যকর হলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি প্রায় শূন্যের কোঠায় নামবে। ভবিষ্যতে কর্মচারী নিয়োগও একই প্রক্রিয়ায় আনার প্রস্তুতি রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নিয়োগে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যোগ্য ও মেধাবীরা সুযোগ পাবেন। নীতিমালাটি শিগগিরই জারি করা হবে।
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে কিছু দপ্তর থেকে শূন্য পদের তালিকাও এসেছে। সব তথ্য চূড়ান্ত করে দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পদভিত্তিক শূন্য পদের তিন গুণ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় ডাক পাবেন। চূড়ান্তভাবে মেধাক্রম অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা হবে এবং সমসংখ্যক প্রার্থীর একটি প্যানেল থাকবে। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম পছন্দ হিসেবে দিতে পারবেন। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে তিনি নিয়োগের অযোগ্য হবেন।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও সুপার পদে নিয়োগ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সীমিত সময়ের জন্য কিছু প্রক্রিয়া শেষ হলেও এখন নতুন পদ্ধতিতে আবার শুরু হচ্ছে নিয়োগ কার্যক্রম।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১০ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের ৩ হাজার ৯২০টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৩ হাজার ৮৭০টি পদ। নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫০৪টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া স্নাতক (পাস) কলেজে ৫৮২টি অধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে এবং ও ৬২৭টি উপাধ্যক্ষ পদ শূন্য রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শূন্য রয়েছে ৭৬৭টি অধ্যক্ষ পদ।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা ম্যানেজিং কমিটির হাত থেকে এসব শীর্ষ পদের নিয়োগ ক্ষমতা সরিয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ৫০ নম্বরের পরিবর্তে ১০০ নম্বরের পরীক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬’ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করবে এনটিআরসিএ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে করে নিয়োগ-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বড় একটি ক্ষেত্র ছিল শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ। ২০১৫ সাল থেকে সাধারণ শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে হওয়ায় সেখানে অনিয়ম অনেকাংশে কমেছে। তবে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকায় এসব পদে ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল নিয়মিত। অনেক প্রতিষ্ঠানে এসব পদের জন্য ৫০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের কথাও উঠে এসেছে।
নিয়োগে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়– এর মধ্যে লিখিত ৩০, মৌখিক ৮ ও সনদে ১২ নম্বর। নতুন নীতিমালায় এই কাঠামো বদলে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত বা বাছাই পরীক্ষায় থাকবে ৮০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে ১২ এবং মৌখিকে ৮ নম্বর। ছয়টি পৃথক বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীর প্রশাসনিক দক্ষতা, একাডেমিক যোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণ মূল্যায়ন করা হবে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তর থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হলেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এনটিআরসিএ। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীদের মোট নম্বরের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ পেতে হবে। লিখিত, সনদ ও মৌখিক– এই তিন ধাপের নম্বর যোগ করে জাতীয় মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। সেখান থেকেই শূন্য পদে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হবে।
এখন পর্যন্ত প্রচলিত ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও বোর্ড গঠন করত। নিয়োগ বোর্ডে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি থাকলেও বাস্তবে কমিটির সভাপতির ইচ্ছাই মুখ্য হয়ে উঠত– এমন অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। কোথাও লিখিত ও মৌখিকে কম নম্বর পেয়েও নিয়োগ পাওয়ার নজির আছে। নতুন নীতিমালায় সব পরীক্ষা, ফলাফল ও চূড়ান্ত সুপারিশ পুরোপুরি এনটিআরসিএর হাতে থাকবে এবং তা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পদ্ধতি কার্যকর হলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি প্রায় শূন্যের কোঠায় নামবে। ভবিষ্যতে কর্মচারী নিয়োগও একই প্রক্রিয়ায় আনার প্রস্তুতি রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নিয়োগে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যোগ্য ও মেধাবীরা সুযোগ পাবেন। নীতিমালাটি শিগগিরই জারি করা হবে।
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে কিছু দপ্তর থেকে শূন্য পদের তালিকাও এসেছে। সব তথ্য চূড়ান্ত করে দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পদভিত্তিক শূন্য পদের তিন গুণ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় ডাক পাবেন। চূড়ান্তভাবে মেধাক্রম অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা হবে এবং সমসংখ্যক প্রার্থীর একটি প্যানেল থাকবে। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম পছন্দ হিসেবে দিতে পারবেন। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে তিনি নিয়োগের অযোগ্য হবেন।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও সুপার পদে নিয়োগ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সীমিত সময়ের জন্য কিছু প্রক্রিয়া শেষ হলেও এখন নতুন পদ্ধতিতে আবার শুরু হচ্ছে নিয়োগ কার্যক্রম।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১০ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের ৩ হাজার ৯২০টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৩ হাজার ৮৭০টি পদ। নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫০৪টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া স্নাতক (পাস) কলেজে ৫৮২টি অধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে এবং ও ৬২৭টি উপাধ্যক্ষ পদ শূন্য রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শূন্য রয়েছে ৭৬৭টি অধ্যক্ষ পদ।

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হচ্ছে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদ
সিটিজেন-ডেস্ক

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা ম্যানেজিং কমিটির হাত থেকে এসব শীর্ষ পদের নিয়োগ ক্ষমতা সরিয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ৫০ নম্বরের পরিবর্তে ১০০ নম্বরের পরীক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬’ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করবে এনটিআরসিএ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে করে নিয়োগ-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বড় একটি ক্ষেত্র ছিল শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ। ২০১৫ সাল থেকে সাধারণ শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে হওয়ায় সেখানে অনিয়ম অনেকাংশে কমেছে। তবে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকায় এসব পদে ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল নিয়মিত। অনেক প্রতিষ্ঠানে এসব পদের জন্য ৫০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের কথাও উঠে এসেছে।
নিয়োগে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়– এর মধ্যে লিখিত ৩০, মৌখিক ৮ ও সনদে ১২ নম্বর। নতুন নীতিমালায় এই কাঠামো বদলে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত বা বাছাই পরীক্ষায় থাকবে ৮০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে ১২ এবং মৌখিকে ৮ নম্বর। ছয়টি পৃথক বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীর প্রশাসনিক দক্ষতা, একাডেমিক যোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণ মূল্যায়ন করা হবে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তর থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হলেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এনটিআরসিএ। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীদের মোট নম্বরের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ পেতে হবে। লিখিত, সনদ ও মৌখিক– এই তিন ধাপের নম্বর যোগ করে জাতীয় মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। সেখান থেকেই শূন্য পদে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হবে।
এখন পর্যন্ত প্রচলিত ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও বোর্ড গঠন করত। নিয়োগ বোর্ডে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি থাকলেও বাস্তবে কমিটির সভাপতির ইচ্ছাই মুখ্য হয়ে উঠত– এমন অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। কোথাও লিখিত ও মৌখিকে কম নম্বর পেয়েও নিয়োগ পাওয়ার নজির আছে। নতুন নীতিমালায় সব পরীক্ষা, ফলাফল ও চূড়ান্ত সুপারিশ পুরোপুরি এনটিআরসিএর হাতে থাকবে এবং তা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পদ্ধতি কার্যকর হলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি প্রায় শূন্যের কোঠায় নামবে। ভবিষ্যতে কর্মচারী নিয়োগও একই প্রক্রিয়ায় আনার প্রস্তুতি রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নিয়োগে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যোগ্য ও মেধাবীরা সুযোগ পাবেন। নীতিমালাটি শিগগিরই জারি করা হবে।
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে কিছু দপ্তর থেকে শূন্য পদের তালিকাও এসেছে। সব তথ্য চূড়ান্ত করে দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পদভিত্তিক শূন্য পদের তিন গুণ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় ডাক পাবেন। চূড়ান্তভাবে মেধাক্রম অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা হবে এবং সমসংখ্যক প্রার্থীর একটি প্যানেল থাকবে। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম পছন্দ হিসেবে দিতে পারবেন। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে তিনি নিয়োগের অযোগ্য হবেন।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও সুপার পদে নিয়োগ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সীমিত সময়ের জন্য কিছু প্রক্রিয়া শেষ হলেও এখন নতুন পদ্ধতিতে আবার শুরু হচ্ছে নিয়োগ কার্যক্রম।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১০ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের ৩ হাজার ৯২০টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৩ হাজার ৮৭০টি পদ। নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫০৪টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া স্নাতক (পাস) কলেজে ৫৮২টি অধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে এবং ও ৬২৭টি উপাধ্যক্ষ পদ শূন্য রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শূন্য রয়েছে ৭৬৭টি অধ্যক্ষ পদ।




