শিরোনাম

তারেক রহমানের বক্তব্যে পরীমনির প্রতিক্রিয়া

বিনোদন ডেস্ক
তারেক রহমানের বক্তব্যে পরীমনির প্রতিক্রিয়া
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও চিত্রনায়িকা পরীমনি। ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গতকাল সপরিবারে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে সিলেটে পৌঁছায়। সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে ফ্লাইটটি বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকার উদ্দেশে রওনা হন। বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনামঞ্চ পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ পথজুড়ে ছিল বিপুল মানুষের উপস্থিতি। পরে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের দেওয়া সেই বক্তব্যের প্রশংসা করছেন অনেকেই। এ তালিকায় রয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। তাঁদেরই একজন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

তারেক রহমানের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে পরীমনি লেখেন, “আজ এ দেশের মানুষ চায়’… যখন বললেন একদম শিরদাঁড়ায় এসে বিঁধলো। কি যে এক মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে! শান্তি নেমে আসুক সবার জীবনে আর কিছু চাওয়ার নেই।”

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে তারেক রহমান বক্তব্য শুরু করেন। মঞ্চে তাকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণসংবর্ধনায় ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ বলে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন বলেন, প্রথমেই রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।

তিনি বলেন, ‘৭১ এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ২০২৪ সালে তেমন সর্বস্তরের মানুষ; সবাই মিলে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।’

জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান বলেন, আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই আছে। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে দেশে পাহাড়ের সমতলের নারী, পুরুষ, শিশু সবাই নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম শুনেছেন না আপনারা? নাম শুনেছেন তো? মার্টিন লুথার কিং-এর একটি বিখ্যাত ডায়লগ আছে, ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সবার সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি (দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে)। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।’

তারেক রহমান বলেন, যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়, প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন এবং সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে যত মানুষ আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।