শিরোনাম

ইব্রাহিম ত্রাওরেকে হত্যার ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার দাবি

সিটিজেন-ডেস্ক
ইব্রাহিম ত্রাওরেকে হত্যার ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার দাবি
বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরে। ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরেকে হত্যার ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার দাবি করেছে দেশটির সরকার। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী মাহামাদু সানা এ দাবি করেন।

নিরাপত্তামন্ত্রী জানান, ২০২২ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল পল হেনরি দামিবার পরিকল্পনায় ত্রাওরেকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

মাহামাদু সানা বলেন, “আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো শেষ মুহূর্তে এই হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে। তারা রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার পরিকল্পনা করছিলো। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক ব্যক্তিদেরকেও লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো।”

নিরাপত্তামন্ত্রী অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী আইভরি কোস্ট থেকে এই ষড়যন্ত্রের অর্থায়ন করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কর্নেল দামিবা বা আইভরি কোস্টের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে ক্যাপ্টেন ত্রাওরে অন্তত দুবার পাল্টা অভ্যুত্থানের চেষ্টা রোধ করেছেন। পাশাপাশি তাকে জিহাদি সহিংসতার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে, যার কারণে লাখ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

নিরাপত্তামন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা একটি ফাঁস হওয়া ভিডিও উদ্ধার করেছেন। ভিডিওতে তারা প্রেসিডেন্টকে কীভাবে হত্যা করবে সে বিষয়ে কথা বলছিলো। তারা বলছিলো, হয় কাছ থেকে আক্রমণ করে, নয়তো বাসভবনে বিস্ফোরক পুঁতে হত্যা করা হবে।

‘স্থানীয় সময় গত শনিবার রাত ১১টার পরপরই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ছিলো। এরপর তারা অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও উল্লেখযোগ্য বেসামরিক ব্যক্তিদের নিশানা করতে চেয়েছিলো,’ যোগ করেন তিনি।

মাহামাদু সানা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক সামরিক শাসক তার সেনা ও বেসামরিক সমর্থকদের এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত করেছিলেন। তিনি জানান, এ কাজে তারা বিদেশি সহায়তাও পেয়েছে। পার্শ্ববর্তী আইভরি কোস্ট থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার পাঠানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে নিরাপত্তামন্ত্রী বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। তবে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রদান করেননি।

এদিকে অভ্যুত্থান চেষ্টার কথা জানার পর প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিমের হাজার হাজার সমর্থক দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেন। যা ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো। ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন সরকারকে যেন কেউ উৎখাত করতে না পারে সেজন্য তারা আন্দোলন করেন।

সূত্র: বিবিসি, নিউজ ঘানা

/জেএইচ/