শিরোনাম

গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন না ট্রাম্প

সিটিজেন-ডেস্ক­
গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন না ট্রাম্প
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ছবি: রয়টার্স)

গ্রিনল্যান্ড নিজের কব্জায় নেওয়ার সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটিকে নিজেদের দখলে নেওয়ার দাবিতে অনড় তিনি। একইসঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা হলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও সর্তক করেছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের বার্ষিক সভায় ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে এভাবে গ্রিনল্যািন্ড দখলের বিষয়ে তাঁর জোরালো মনোভাবের কথা এভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি ওই সভায় বলেন, ‘অনেকেই ভেবেছিল গ্রিনল্যান্ডে আমি বলপ্রয়োগ করবো। কিন্তু আমি তা আর করবো না।’ তার এই ঘোষণায় ইউরোপের অঞ্চলটিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে সৃষ্ট অচলাবস্থার অবসান হলো।

ন্যাটোর মহাসচিব ম্যার্কো রুটের সঙ্গে দেখা করার পর নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, গ্রিনল্যান্ডকে সম্মানজনকভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির একটি কাঠামো’ তৈরি করেছেন তিনি। সেই কাঠামোর বিস্তারিত জানা না গেলেও ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়েছিলেন তা তিনি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। যদিও ফক্স নিউজকে রুটে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

দাভোসে সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতে ডেনমার্কের কড়া সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার কৌশলগত কারণে এটিকে আমাদের দরকার। এই বিশাল, অরক্ষিত দ্বীপটি আসলে উত্তর আমেরিকারই একটি অংশ। এটি আমাদের ভূখণ্ড।‘

ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো আর কেউ নিরাপদ রাখতে পারবে না। তাই ইউরোপের উচিত হবে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিকে তার হাতে তুলে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমি এই অঞ্চলকে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে আনতে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করতে চাই।’

ন্যাটোকে আমেরিকার জন্য অর্থের অপচয় উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আজ পর্যন্ত ন্যাটোর কাছ থেকে না কিছু চেয়েছি, না কিছু পেয়েছি। আমরা চাইলে এই ভূখণ্ডকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারতাম, তবে সেটা করিনি। এটার মানে তাদের সামনে বিকল্প আছে। এখন তারা যদি ‘হ্যাঁ’ বলে তাহলে আমরা খুবই কৃতজ্ঞ থাকবো। অথবা তারা ‘না’ বলতে পারে, আমরা সেটা মনে রাখবো।”

নিজেদের বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি দাবি করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রই পৃথিবীর অর্থনৈতিক ইঞ্জিন। আর যখন আমেরিকা সমৃদ্ধ হয়, তখন পুরো বিশ্বই সমৃদ্ধ হয়। এটাই ইতিহাস।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন পরিস্থিতি খারাপ হয়, তখন তোমরাও আমাদের সঙ্গে নিচে নামো, আবার আমাদের সঙ্গেই উপরে ওঠো। আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে আছি, যেখানে আগে কখনোই ছিলাম না।’

এটা দিয়ে মূলত শুল্ক আরোপের কূটনীতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার হাতে না দিলে ইউরোপের ওপর চড়া শুল্কহার আরোপ করতে যাচ্ছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি।

২০১৯ সালে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ‍নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছরের শেষদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে অপহরণের পর তার গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

/বিবি/