শিরোনাম

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় পর্যদ গঠন, সভাপতি ট্রাম্প

সিটিজেন-ডেস্ক­
গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় পর্যদ গঠন, সভাপতি ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রম্প। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা পর্ষদ’ গঠন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পর্ষদের সভাপতিও তিনি । গত বৃহস্পতিবার এ পর্ষদের তত্ত্বাবধানে ১৫ সদস্যের টেকনোক্রেটিক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবে।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে অন্তর্ভুক্ত করে পর্ষদের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস।

গতকাল শুক্রবার পর্ষদের সদস্যদের নাম জানানো হয়। এতে ব্লেয়ার ও কুশনার ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

হোয়াইট হাউস জানায়, পর্ষদে আরও রয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ট্রাম্পের উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল ও প্রাইভেট ইকুইটি এক্সিকিউটিভ ও ধনকুবের মার্ক রোয়ান। এ ছাড়া জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ গাজায় হাই-রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সদস্যদের কার কী সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব হবে, তা হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

এ পর্ষদের অধীন গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রথমে গাজাবাসীর জন্য জরুরি ত্রাণের ব্যবস্থা করবে বলে জানান প্রশাসনের সম্ভাব্য প্রধান আলী শায়াথ। ওয়েস্ট ব্যাংক রেডিও স্টেশন নামের একটি সম্প্রচারমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, গাজা পুনর্গঠনে তিন বছরের বেশি লাগবে না। যদিও জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপত্যকাটিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোগুলো নতুন করে গড়ে তুলতে অন্তত ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে।

এই প্রশাসনিক কমিটি গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনির সেবার দায়িত্ব পাবে। এর কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, অর্থায়ন করবে কে–এমন অনেক প্রশ্নের জবাব মেলেনি। জাতিসংঘের অনুমান, গাজা পুনর্গঠনে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় হবে। এখন পর্যন্ত খুব কম অর্থের প্রতিশ্রুতি মিলেছে।

এ কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছে উপত্যকার শাসকগোষ্ঠী হামাস। এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা এগিয়ে নিতে হামাসসহ ফিলিস্তিনের অন্য সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা মিসরের রাজধানী কায়রোতে রয়েছেন।

বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা এবং নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনার মধ্যেই শান্তি পর্ষদের তত্ত্বাবধানে এই কমিটি গঠন করা হলো।

নতুন কমিটি প্রসঙ্গে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম বলেন, ‘কমিটি গঠন সঠিক পদক্ষেপ। যুদ্ধবিরতি সুসংহত করা, যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ, বিপর্যয়কর মানবিক সংকট মোকাবিলা ও ব্যাপক পুনর্গঠনের প্রস্তুতির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে উপত্যকায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্গঠন ও দৈনন্দিন শাসনের সঙ্গে জড়িত পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোপ্রধানের উপদেষ্টা তাহের আল-নুনু আলজাজিরাকে বলেন, কায়রোতে আলোচনায় রাফা ক্রসিং আবার চালু, সীমান্তে মিসর অংশে থাকা সহায়তার অবাধ প্রবেশ ও ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিতের ওপর আলোকপাত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হামাসকে ‘গাজায় শান্তি এবং স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য মধ্যস্থতাকারী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে’। তবে আল-নুনুর অভিযোগ, ‘ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। অথচ হামাস ক্রসিং খুলে দেওয়া, সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া ও গাজা উপত্যকা থেকে দখলদার বাহিনীকে প্রত্যাহার নিশ্চিত করার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কাজ করছে।’

বাকি বিল্লাহ