শিরোনাম

যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে কঠোর: জাতিসংঘে ইরান

সিটিজেন-ডেস্ক­
যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে কঠোর: জাতিসংঘে ইরান
ইরান ইস্যুতে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: রয়টার্স

ইরানের সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ এবং ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা লক্ষ্য করা গেছে।

বৈঠকে জাতিসংঘে ইরানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম হোসেন দারজি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ইরানে অস্থিরতা সৃষ্টি করার সরাসরি অভিযোগ তোলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ‘ইরান কোনো সংঘাতের পথ অনুসরণ করতে চায় না, তবে যে কোনো ধরনের আগ্রাসন, তা সে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যা-ই হোক না কেন, তার জবাব হবে কঠোর, যথোপযুক্ত ও আইনসম্মত। এটা হুমকি নয়, আইনি বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।’

এছাড়া তিনি মার্কিন হুমকিকে আইনবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে এর পরিণতির জন্য ওয়াশিংটনকেই দায়ী করেন।

অন্যদিকে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের সাহসী জনগণের’ পাশে আছে এবং ‘হত্যাযজ্ঞ বন্ধে সব বিকল্পই যে খোলা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন’। যদিও এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের বারবার হুমকি দিয়েছিলেন, তবে বৈঠকের দিন মার্কিন প্রতিনিধিদের বক্তব্যে সেই সুর কিছুটা নরম দেখা গেছে।

ওয়াল্টজ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাজের লোক, তিনি অন্তহীন কথাবার্তার লোক না যেমনটা আমরা জাতিসংঘে দেখি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, হত্যাযজ্ঞ বন্ধে সব বিকল্পই খোলা রয়েছে।’

বিক্ষোভ ‘সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত করে দেওয়া বিদেশি ষড়যন্ত্র’ তেহরানের এমন অভিযোগও খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।

ওয়াল্টজ বলেন, ‘বিশ্বের সবারই জানা দরকার যে ইরানের শাসকরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল, আর সে কারণেই রাস্তায় নেমে আসা ইরানি জনগণের শক্তির মুখে তারা এমন মিথ্যাকে সামনে এনেছে। তারা ভীত, তারা নিজের দেশের লোকজনকে নিয়েই ভীত।’

গোলাম হোসেন দারজি ওয়াল্টজের বিরুদ্ধে ‘ইরানের অস্থিরতাকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে তার দেশের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি লুকাতে মিথ্যা বলা, তথ্য বিকৃতি ও ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রচারের’ অভিযোগ আনেন ।

এদিকে জাতিসংঘে রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, নিজেদের ‘নির্লজ্জ আগ্রাসনকে বৈধতা দিতে ও সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপকে’ জায়েজ করতে এবং ‘ইরানি সমস্যাকে তাদের সবচেয়ে পছন্দের উপায়ে, তাদের অপছন্দের শাসন ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলার’ হুমকি দিতে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠক ডেকেছে।

“আমরা ওয়াশিংটন ও অন্যান্য রাজধানীর মাথা গরম লোকদের হুঁশে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি,” বলেছেন তিনি।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মার্থা পোবি পরিষদকে জানান, মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘সংবেদনশীল এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং আরও প্রাণহানি কিংবা বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভটি দ্রুত দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে এবং চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করছে।

পোবি এই প্রাণহানির ঘটনায় স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানান এবং আটকদের ওপর কোনো ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার জন্য ইরানের প্রতি অনুরোধ জানান। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

/জেএইচ/