রয়টার্সের প্রতিবেদন
বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে নজর পাকিস্তানের

বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে নজর পাকিস্তানের
সিটিজেন-ডেস্ক

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রিসহ সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই আলোচনার তথ্য প্রকাশ করেছে।
গত বছরের মে মাসে চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সাফল্যকে পুঁজি করে কৌশলগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। পরমাণু শক্তিধর দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ওই সংঘাতটি ছিল প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক লড়াই।
জেএফ-১৭ থান্ডার একটি মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে এই বিমান তৈরি করেছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের সময়ও এই যুদ্ধবিমান তার কার্যকারিতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করেছিল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ গবেষণার (অ্যারোস্পেস) অগ্রগতিতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপসহ উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধানকে নিজেদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে উন্নততর উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত কোর্সের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পাকিস্তানের আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান ‘সুপার মুশাক’ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান দ্রুত সরবরাহ করার পাশাপাশি একটি পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আশ্বাস দিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধের সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং তাদের আভিযানিক দক্ষতা থেকে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরোনো বিমানবহরের রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং আকাশপথে নজরদারি বাড়াতে আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা সংযোজনে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তান আইএসপিআর জানায়, ‘জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’ প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও পরিদর্শন করেছে।
ব্যাপক গণবিক্ষোভের মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক শীতল হয়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পাকিস্তানের আইএসপিআর জানিয়েছে, ‘এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলেছে। এটি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।’
হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইসলামাবাদ ও ঢাকা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর প্রথমবার সরাসরি বাণিজ্য শুরু করে। ওই যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যেও একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ইসলামপন্থী দল। তারা একসময় নিষিদ্ধ ছিলো। এই দল সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানগুলো পাকিস্তানের সামরিক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আজারবাইজান ও লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে পাকিস্তানের অস্ত্র চুক্তিতেও এসব যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত আছে, যার মধ্যে লিবিয়ার সঙ্গে চুক্তির পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলার।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, অস্ত্র খাতে সাফল্য দেশের অর্থনীতির চেহারা পরিবর্তন করতে পারে। জিও নিউজকে তিনি বলেন, “আমাদের যুদ্ধবিমান পরীক্ষিত এবং এটা কিনতে এত অর্ডার আসছে যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভর করতে হবে না।’

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রিসহ সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই আলোচনার তথ্য প্রকাশ করেছে।
গত বছরের মে মাসে চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সাফল্যকে পুঁজি করে কৌশলগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। পরমাণু শক্তিধর দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ওই সংঘাতটি ছিল প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক লড়াই।
জেএফ-১৭ থান্ডার একটি মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে এই বিমান তৈরি করেছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের সময়ও এই যুদ্ধবিমান তার কার্যকারিতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করেছিল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ গবেষণার (অ্যারোস্পেস) অগ্রগতিতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপসহ উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধানকে নিজেদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে উন্নততর উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত কোর্সের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পাকিস্তানের আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান ‘সুপার মুশাক’ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান দ্রুত সরবরাহ করার পাশাপাশি একটি পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আশ্বাস দিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধের সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং তাদের আভিযানিক দক্ষতা থেকে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরোনো বিমানবহরের রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং আকাশপথে নজরদারি বাড়াতে আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা সংযোজনে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তান আইএসপিআর জানায়, ‘জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’ প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও পরিদর্শন করেছে।
ব্যাপক গণবিক্ষোভের মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক শীতল হয়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পাকিস্তানের আইএসপিআর জানিয়েছে, ‘এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলেছে। এটি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।’
হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইসলামাবাদ ও ঢাকা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর প্রথমবার সরাসরি বাণিজ্য শুরু করে। ওই যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যেও একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ইসলামপন্থী দল। তারা একসময় নিষিদ্ধ ছিলো। এই দল সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানগুলো পাকিস্তানের সামরিক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আজারবাইজান ও লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে পাকিস্তানের অস্ত্র চুক্তিতেও এসব যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত আছে, যার মধ্যে লিবিয়ার সঙ্গে চুক্তির পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলার।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, অস্ত্র খাতে সাফল্য দেশের অর্থনীতির চেহারা পরিবর্তন করতে পারে। জিও নিউজকে তিনি বলেন, “আমাদের যুদ্ধবিমান পরীক্ষিত এবং এটা কিনতে এত অর্ডার আসছে যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভর করতে হবে না।’

বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে নজর পাকিস্তানের
সিটিজেন-ডেস্ক

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রিসহ সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই আলোচনার তথ্য প্রকাশ করেছে।
গত বছরের মে মাসে চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সাফল্যকে পুঁজি করে কৌশলগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। পরমাণু শক্তিধর দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ওই সংঘাতটি ছিল প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক লড়াই।
জেএফ-১৭ থান্ডার একটি মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে এই বিমান তৈরি করেছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের সময়ও এই যুদ্ধবিমান তার কার্যকারিতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করেছিল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ গবেষণার (অ্যারোস্পেস) অগ্রগতিতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপসহ উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধানকে নিজেদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে উন্নততর উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত কোর্সের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পাকিস্তানের আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান ‘সুপার মুশাক’ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান দ্রুত সরবরাহ করার পাশাপাশি একটি পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আশ্বাস দিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধের সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং তাদের আভিযানিক দক্ষতা থেকে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরোনো বিমানবহরের রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং আকাশপথে নজরদারি বাড়াতে আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা সংযোজনে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তান আইএসপিআর জানায়, ‘জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’ প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও পরিদর্শন করেছে।
ব্যাপক গণবিক্ষোভের মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক শীতল হয়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পাকিস্তানের আইএসপিআর জানিয়েছে, ‘এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলেছে। এটি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।’
হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইসলামাবাদ ও ঢাকা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর প্রথমবার সরাসরি বাণিজ্য শুরু করে। ওই যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যেও একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ইসলামপন্থী দল। তারা একসময় নিষিদ্ধ ছিলো। এই দল সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানগুলো পাকিস্তানের সামরিক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আজারবাইজান ও লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে পাকিস্তানের অস্ত্র চুক্তিতেও এসব যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত আছে, যার মধ্যে লিবিয়ার সঙ্গে চুক্তির পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলার।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, অস্ত্র খাতে সাফল্য দেশের অর্থনীতির চেহারা পরিবর্তন করতে পারে। জিও নিউজকে তিনি বলেন, “আমাদের যুদ্ধবিমান পরীক্ষিত এবং এটা কিনতে এত অর্ডার আসছে যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভর করতে হবে না।’




