শিরোনাম

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
লাখো মানুষের অংশগ্রহণে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষ। ছবি: হারুন-ওর-রশীদ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার জানাজা যথাযোগ্য মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ে বেলা ৩টা ৩ মিনিটে অনুষ্ঠিত এ জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন। জানাজার ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালিক।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানরা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক। বিএনপি চেয়ারপাসনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মাসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের প্রতিনিধিরা।

বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার জানাজার ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালিক। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার জানাজার ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালিক। ছবি: সংগৃহীত

জানাজা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি তার বক্তব্যে খালেদার জিয়ার ব্যক্তিগত ও সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরেন। এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার মায়ের বিদেহী আত্মার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

দুপুর ২টায় জানাজার সময় নির্ধারিত ছিল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় তা কিছুটা দেরিতে শুরু হয়। জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জিয়া উদ্যানে’ প্রয়াত স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

জানাজার আগে, মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে স্থাপিত মঞ্চে খালেদা জিয়ার কফিন রাখা হয়। তার মরদেহ বহনকারী জাতীয় পতাকা শোভিত লাশবাহী গাড়িটি বেলা পৌনে ১২টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছায়। গাড়িবহরে একটি লাল-সবুজ বাসে সেখানে আসেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা।

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী। ছবি: সংগৃহীত
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী। ছবি: সংগৃহীত

এদিন সকাল সোয়া ৯টার দিকে বিএনপিনেত্রীর কফিনবন্দি মরদেহ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে নেওয়া হয়। লন্ডন থেকে ফিরে বর্তমানে এ বাড়িতে বসবাস করছেন তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান। বেলা ১১টার দিকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ি থেকে মরদেহবাহী গাড়িবহর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা দেয়।

রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ সময় হাসপাতালে ছিলেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, তারেকের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, প্রয়াত সাইদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার, মেজ বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়াপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজা। ছবি: হারুন-ওর-রশীদ
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়াপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজা। ছবি: হারুন-ওর-রশীদ

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীরভাবে শোকাহত। তার মৃত্যুতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) হতে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে। এ তিনদিন বাংলাদেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।