শিরোনাম

যে দেশে মানুষের চেয়ে ঘোড়া বেশি

আন্তর্জাতিক-জার্নাল
যে দেশে মানুষের চেয়ে ঘোড়া বেশি

বিশ্বের সবচেয়ে নির্জন দেশ হিসেবে পরিচিত মধ্য ও পূর্ব এশিয়ার দেশ মঙ্গোলিয়া। আয়তনে পৃথিবীতে ১৮তম হলেও, বিশাল ভূখণ্ডে বসবাস করে মাত্র ৩.৪ মিলিয়নের মতো মানুষ। মধ্য ও পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির নাম মঙ্গোলিয়া। বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবহুল দেশটি স্থলবেষ্টিত এবং রাশিয়া ও চীনের মাঝে অবস্থিত।

১.৫৬ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে জনসংখ্যা মাত্র ২.১৪ জন। আরও অবাক করা তথ্য হলো—মঙ্গোলিয়ায় মানুষের চেয়ে ঘোড়া বেশি।

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ এবং এফএওস্ট্যাট-এর তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে রয়েছে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন ঘোড়া। অর্থাৎ, প্রতি নাগরিকের বিপরীতে রয়েছে প্রায় দেড়টি ঘোড়া—যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। মঙ্গোলিয়ানদের জীবনযাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে বরাবরই ছিল ঘোড়া।

মঙ্গোলিয়ায় ঘোড়দৌড়
মঙ্গোলিয়ায় ঘোড়দৌড়

১৩ ও ১৪ শতকে চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে মঙ্গোল যোদ্ধারা ঘোড়ায় চড়ে গড়ে তুলেছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সাম্রাজ্য, যার বিস্তার ছিল হাঙ্গেরি থেকে কোরিয়া পর্যন্ত।

স্মিথসনিয়ান ম্যাগাজিন জানায়, প্রতিটি মঙ্গোল যোদ্ধার কাছে থাকত একাধিক ঘোড়া। দীর্ঘ যুদ্ধ ও অভিযানের সময় একটির ক্লান্তি কাটাতে অন্যটি ব্যবহার করা হতো। এ কারণেই মঙ্গোল বাহিনী ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য।

এই ২১ শতকে এসেও মঙ্গোলিয়ার মানুষ সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি নির্ভর করে পাঁচ ধরনের গবাদি পশুর ওপর—ঘোড়া, গরু, ভেড়া, ছাগল ও উট। এর মধ্যে ঘোড়াই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, যা শক্তি, স্বাধীনতা ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক।

বিবিসি ট্রাভেল জানায়, মঙ্গোলিয়ার শিশুরা ৩–৪ বছর বয়স থেকেই ঘোড়ায় চড়া শিখে। জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় নাদাম উৎসবে ঘোড়দৌড় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন, যেখানে প্রতিযোগীরাও প্রায়শই শিশু।

মঙ্গোলিয়ার বন্য ঘোড়া
মঙ্গোলিয়ার বন্য ঘোড়া

মঙ্গোল সংস্কৃতিতে বিশেষ স্থান দখল করে আছে তাখি (প্রিজওয়ালস্কির ঘোড়া), যা ইউরেশিয়ার স্টেপ অঞ্চলের একমাত্র প্রকৃত বন্য ঘোড়া। ১৯৬০-এর দশকে প্রাকৃতিক পরিবেশে এটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

তবে ইউনেস্কো ও ডব্লিউডব্লিউএফ–এর সংরক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে এই ঘোড়া সফলভাবে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে মঙ্গোলিয়ার স্টেপ অঞ্চল এবং গবি মরুভূমিতে। বর্তমানে শত শত তাখি সুরক্ষিত পরিবেশে বাস করছে।

মঙ্গোলদের কাছে তাখির পুনর্জাগরণ তাদের আদি স্টেপ-সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে অটুট বন্ধনের প্রতীক।

সূত্র : টেলিগ্রাফ