শিরোনাম

মানবতাবিরোধী অপরাধে সালমান-আনিসুলের বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
মানবতাবিরোধী অপরাধে সালমান-আনিসুলের বিচার শুরু
সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হক। কোলাজ: সিটিজেন জার্নাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছেন।

ট্রাইব্যুনালের সদস্য শফিউল আলম মাহমুদ পাঁচটি অভিযোগ পড়ে শোনান। তিনি আসামিদের কাছে জানতে চান তারা দোষ স্বীকার করেন কি না। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক দুজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

অভিযোগ গঠনের সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়া গেছে। এ সময় ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের দাখিল করা অব্যাহতির আবেদনও খারিজ করে দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম এবং আসামিপক্ষে মনসুরুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আদেশের পর কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম বলেন, সালমান ফজলুর রহমান এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের দিন আজকে ধার্য ছিল। ট্রাইব্যুনাল তাদের ডিসচার্জ অ্যাপ্লিকেশন নাকচ করেছেন এবং চার্জ গঠন করেছেন।

সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি-প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র। এছাড়া সালমান ও আনিসুল হক চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন বলেও প্রসিকিউশনের অভিযোগ।

গত ২২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ শুনানি শেষ করেছিল। শুনানির ওই পর্যায়ে সালমান ও আনিসুলের একটি বিতর্কিত ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়েছিল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় করা ওই ফোনালাপের পর ঢাকা ও সারা দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ এই প্ররোচনা হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে কাজ করেছে।