শিরোনাম

রেমিট্যান্সে রেকর্ড: এক বছরে এসেছে ৩২ বিলিয়ন ডলার

সিটিজেন-ডেস্ক­
রেমিট্যান্সে রেকর্ড: এক বছরে এসেছে ৩২ বিলিয়ন ডলার
২০২৫ সালে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, যা একক বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড। ছবি: সিটিজেন ডেস্ক

দেশের অর্থনীতির জন্য ২০২৫ সাল যেন একটু স্বস্তির বছর হয়ে এসেছিল প্রবাসীদের হাত ধরেই। বিদায়ী বছরে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স আয়ে গড়েছে নতুন ইতিহাস। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, যা একক বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষাপটেও প্রবাসী আয়ের এই উত্থান দেশের অর্থনীতিতে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। আগের বছর ২০২৪ সালে যেখানে রেমিট্যান্স ছিল ২৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে এই আয় বেড়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৮ শতাংশ।

ডিসেম্বর মাসের প্রবাহ এই উত্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। গত বছরের শেষ মাসে দেশে এসেছে ৩২৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে এসেছিল সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তুলনায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ২৬৪ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে শুধু ডিসেম্বরেই বেড়েছে ৫৯ কোটি ডলার বা প্রায় ২২ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে তিনটি প্রধান উৎসের মধ্যে রেমিট্যান্স সবচেয়ে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য। কারণ এটি সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা এনে দেয় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ওঠানামার তুলনায় তুলনামূলকভাবে স্থির থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডি দমনে জোরালো পদক্ষেপ, প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সেবা সহজ হওয়ায় আনুষ্ঠানিক পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

২০২৫ সালের মাসভিত্তিক চিত্রও এই ইতিবাচক প্রবণতার সাক্ষ্য দেয়। জানুয়ারিতে ২১৮ কোটি ডলার দিয়ে শুরু হলেও মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩০ কোটিতে। এরপর বছরজুড়েই ২৪০ থেকে ৩২০ কোটি ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে প্রবাসী আয়, যার সর্বশেষ প্রতিফলন ডিসেম্বরে ৩২৩ কোটি ডলার।

সাম্প্রতিক কয়েক বছরের হিসাব বলছে, রেমিট্যান্স ধীরে ধীরে শক্ত ভিত গড়ে তুলছে। ২০২৪ সালে আয় ছিল ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার, ২০২৩ সালে ২ হাজার ১৯২ কোটি এবং ২০২২ সালে ২ হাজার ১২৯ কোটি ডলার। এক দশক আগে এই আয় যেখানে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা ৩ হাজার কোটি ডলারের ঘর ছুঁয়েছে।

এর প্রভাব পড়ছে রিজার্ভেও। প্রবাসী আয়ের জোরে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলারে। আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে তা ২ হাজার ৮৫২ কোটি ডলার।

/এসএ/