শিরোনাম

অধ্যাদেশের দাবিতে তাঁতিবাজার ব্লকেড, পড়ার টেবিলে ফিরতে চান শিক্ষার্থীরা

জবি প্রতিনিধি
অধ্যাদেশের দাবিতে তাঁতিবাজার ব্লকেড, পড়ার টেবিলে ফিরতে চান শিক্ষার্থীরা
রাজধানীর তাঁতিবাজার মোড়ে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর তাঁতিবাজার মোড়ে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১২টা থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সায়েন্সল্যাব ও টেকনিক্যাল মোড়ের পাশাপাশি তাঁতিবাজার মোড়েও সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।

তাঁতিবাজার ব্লকেডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রাজপথে থাকতে চাই না, আমরা পড়ার টেবিলে ফিরতে চাই। কিন্তু পরিচয় সংকট আর অনিশ্চয়তা আমাদের বাধ্য করছে রাস্তায় নামতে। অধ্যাদেশ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

তাঁতিবাজার ব্লকেডে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
তাঁতিবাজার ব্লকেডে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম জাহান বলেন, ‘হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এভাবে টালবাহানা মেনে নেওয়া যায় না। নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়েছে। দ্রুত অধ্যাদেশ জারি না হলে শিক্ষাজীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এক দফা দাবি হলো আগামী ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির হালনাগাদ অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিতে হবে এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে দ্রুত চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। অধ্যাদেশ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পরিচয় সংকট ও একাডেমিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যবস্থা, পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানান, ১৫ জানুয়ারির উপদেষ্টা পরিষদের সভায় যদি অধ্যাদেশ অনুমোদন ও জারি না হয়, তাহলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।

/জেএইচ/