যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নতুন ফাইলে ট্রাম্প-অ্যান্ড্রু-মাস্কসহ আরও যাদের নাম

যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নতুন ফাইলে ট্রাম্প-অ্যান্ড্রু-মাস্কসহ আরও যাদের নাম
সিটিজেন-ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে। প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশ করা হয়, যা এপস্টেইন– সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উদ্যোগ।
এই নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি আইনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পরে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, দীর্ঘ ও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে আইন মেনে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে।
কী আছে এসব নথিতে
প্রকাশিত নথিতে রয়েছে এপস্টেইনের কারাগারে থাকার সময়কার বিস্তারিত তথ্য, মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং কারাগারে তার মৃত্যুর বিষয়ক নথি। পাশাপাশি রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তসংক্রান্ত কাগজপত্র। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারে এপস্টেইনকে সহায়তার দায়ে ম্যাক্সওয়েল ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
এ ছাড়া এপস্টেইনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ধনকুবেরদের ই-মেইল আদান-প্রদানের তথ্যও এসব নথিতে অন্তর্ভুক্ত।
ট্রাম্পের নাম শত শতবার
নতুন প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে কয়েক শতবার। এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের একসময় বন্ধুত্ব ছিল বলে জানা যায়। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বহু বছর আগেই সেই সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল এবং এপস্টেইনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।

নথির মধ্যে এফবিআইয়ের তৈরি একটি তালিকাও রয়েছে, যেখানে ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশন সেন্টারের কলসেন্টারে ফোন করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগের অনেকটাই ছিল যাচাই-বিহীন এবং প্রমাণহীন।
বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নথিতে থাকা ট্রাম্প-বিরোধী কিছু অভিযোগ মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত, যা ২০২০ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে জমা দেওয়া হয়েছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি থাকলে সেগুলো অনেক আগেই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হতো।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এপস্টেইনের অপরাধের কোনো ভুক্তভোগী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।
বিল গেটস ও অন্যান্য ধনকুবের নাম
মাইক্রোসফটের সহ–প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নামও নথিতে উঠে এসেছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। গেটসের মুখপাত্র এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০১৩ সালের দুটি ই-মেইল এপস্টেইনের লেখা বলে মনে হলেও, সেগুলো আদৌ গেটসকে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ই-মেইলগুলোতে গেটসের সঙ্গে যুক্ত কোনো ই-মেইল ঠিকানা বা স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
নথিতে ইলন মাস্কের সঙ্গে এপস্টেইনের ই-মেইল যোগাযোগের কথাও আছে। ২০১২ সালের এক ই-মেইলে এপস্টেইন মাস্ককে তার দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাস্ক উত্তরে ব্যক্তিগত সফরের ইঙ্গিত দেন।
এ ছাড়া ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ ও ভ্রমণের প্রসঙ্গ রয়েছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রসঙ্গ
নথিতে ব্রিটেনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেও এপস্টেইনের যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য ডিউক’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ই-মেইল আদান-প্রদানের কথা উল্লেখ আছে, যাকে অনেকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু হিসেবে শনাক্ত করছেন। এসব ই-মেইলে ডিনার আয়োজন ও এক রাশিয়ান নারীর সঙ্গে পরিচয়ের প্রস্তাবের কথা থাকলেও কোনো অপরাধমূলক ইঙ্গিত নেই।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু দীর্ঘদিন ধরেই এপস্টেইনের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
আরও নথি কি গোপন আছে?
বিচার বিভাগ বলছে, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের কাজ শেষ হয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছেন, কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই প্রায় আড়াই লাখ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রোহ খানা জানান, বিচার বিভাগ ছয় মিলিয়নের বেশি পৃষ্ঠা শনাক্ত করলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন পৃষ্ঠা প্রকাশ করেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে। প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশ করা হয়, যা এপস্টেইন– সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উদ্যোগ।
এই নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি আইনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পরে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, দীর্ঘ ও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে আইন মেনে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে।
কী আছে এসব নথিতে
প্রকাশিত নথিতে রয়েছে এপস্টেইনের কারাগারে থাকার সময়কার বিস্তারিত তথ্য, মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং কারাগারে তার মৃত্যুর বিষয়ক নথি। পাশাপাশি রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তসংক্রান্ত কাগজপত্র। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারে এপস্টেইনকে সহায়তার দায়ে ম্যাক্সওয়েল ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
এ ছাড়া এপস্টেইনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ধনকুবেরদের ই-মেইল আদান-প্রদানের তথ্যও এসব নথিতে অন্তর্ভুক্ত।
ট্রাম্পের নাম শত শতবার
নতুন প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে কয়েক শতবার। এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের একসময় বন্ধুত্ব ছিল বলে জানা যায়। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বহু বছর আগেই সেই সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল এবং এপস্টেইনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।

নথির মধ্যে এফবিআইয়ের তৈরি একটি তালিকাও রয়েছে, যেখানে ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশন সেন্টারের কলসেন্টারে ফোন করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগের অনেকটাই ছিল যাচাই-বিহীন এবং প্রমাণহীন।
বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নথিতে থাকা ট্রাম্প-বিরোধী কিছু অভিযোগ মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত, যা ২০২০ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে জমা দেওয়া হয়েছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি থাকলে সেগুলো অনেক আগেই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হতো।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এপস্টেইনের অপরাধের কোনো ভুক্তভোগী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।
বিল গেটস ও অন্যান্য ধনকুবের নাম
মাইক্রোসফটের সহ–প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নামও নথিতে উঠে এসেছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। গেটসের মুখপাত্র এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০১৩ সালের দুটি ই-মেইল এপস্টেইনের লেখা বলে মনে হলেও, সেগুলো আদৌ গেটসকে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ই-মেইলগুলোতে গেটসের সঙ্গে যুক্ত কোনো ই-মেইল ঠিকানা বা স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
নথিতে ইলন মাস্কের সঙ্গে এপস্টেইনের ই-মেইল যোগাযোগের কথাও আছে। ২০১২ সালের এক ই-মেইলে এপস্টেইন মাস্ককে তার দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাস্ক উত্তরে ব্যক্তিগত সফরের ইঙ্গিত দেন।
এ ছাড়া ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ ও ভ্রমণের প্রসঙ্গ রয়েছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রসঙ্গ
নথিতে ব্রিটেনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেও এপস্টেইনের যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য ডিউক’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ই-মেইল আদান-প্রদানের কথা উল্লেখ আছে, যাকে অনেকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু হিসেবে শনাক্ত করছেন। এসব ই-মেইলে ডিনার আয়োজন ও এক রাশিয়ান নারীর সঙ্গে পরিচয়ের প্রস্তাবের কথা থাকলেও কোনো অপরাধমূলক ইঙ্গিত নেই।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু দীর্ঘদিন ধরেই এপস্টেইনের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
আরও নথি কি গোপন আছে?
বিচার বিভাগ বলছে, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের কাজ শেষ হয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছেন, কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই প্রায় আড়াই লাখ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রোহ খানা জানান, বিচার বিভাগ ছয় মিলিয়নের বেশি পৃষ্ঠা শনাক্ত করলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন পৃষ্ঠা প্রকাশ করেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নতুন ফাইলে ট্রাম্প-অ্যান্ড্রু-মাস্কসহ আরও যাদের নাম
সিটিজেন-ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে। প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশ করা হয়, যা এপস্টেইন– সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উদ্যোগ।
এই নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি আইনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পরে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, দীর্ঘ ও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে আইন মেনে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে।
কী আছে এসব নথিতে
প্রকাশিত নথিতে রয়েছে এপস্টেইনের কারাগারে থাকার সময়কার বিস্তারিত তথ্য, মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং কারাগারে তার মৃত্যুর বিষয়ক নথি। পাশাপাশি রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তসংক্রান্ত কাগজপত্র। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারে এপস্টেইনকে সহায়তার দায়ে ম্যাক্সওয়েল ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
এ ছাড়া এপস্টেইনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ধনকুবেরদের ই-মেইল আদান-প্রদানের তথ্যও এসব নথিতে অন্তর্ভুক্ত।
ট্রাম্পের নাম শত শতবার
নতুন প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে কয়েক শতবার। এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের একসময় বন্ধুত্ব ছিল বলে জানা যায়। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বহু বছর আগেই সেই সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল এবং এপস্টেইনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।

নথির মধ্যে এফবিআইয়ের তৈরি একটি তালিকাও রয়েছে, যেখানে ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশন সেন্টারের কলসেন্টারে ফোন করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগের অনেকটাই ছিল যাচাই-বিহীন এবং প্রমাণহীন।
বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নথিতে থাকা ট্রাম্প-বিরোধী কিছু অভিযোগ মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত, যা ২০২০ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে জমা দেওয়া হয়েছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি থাকলে সেগুলো অনেক আগেই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হতো।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এপস্টেইনের অপরাধের কোনো ভুক্তভোগী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।
বিল গেটস ও অন্যান্য ধনকুবের নাম
মাইক্রোসফটের সহ–প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নামও নথিতে উঠে এসেছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। গেটসের মুখপাত্র এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০১৩ সালের দুটি ই-মেইল এপস্টেইনের লেখা বলে মনে হলেও, সেগুলো আদৌ গেটসকে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ই-মেইলগুলোতে গেটসের সঙ্গে যুক্ত কোনো ই-মেইল ঠিকানা বা স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
নথিতে ইলন মাস্কের সঙ্গে এপস্টেইনের ই-মেইল যোগাযোগের কথাও আছে। ২০১২ সালের এক ই-মেইলে এপস্টেইন মাস্ককে তার দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাস্ক উত্তরে ব্যক্তিগত সফরের ইঙ্গিত দেন।
এ ছাড়া ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ ও ভ্রমণের প্রসঙ্গ রয়েছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রসঙ্গ
নথিতে ব্রিটেনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেও এপস্টেইনের যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য ডিউক’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ই-মেইল আদান-প্রদানের কথা উল্লেখ আছে, যাকে অনেকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু হিসেবে শনাক্ত করছেন। এসব ই-মেইলে ডিনার আয়োজন ও এক রাশিয়ান নারীর সঙ্গে পরিচয়ের প্রস্তাবের কথা থাকলেও কোনো অপরাধমূলক ইঙ্গিত নেই।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু দীর্ঘদিন ধরেই এপস্টেইনের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
আরও নথি কি গোপন আছে?
বিচার বিভাগ বলছে, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের কাজ শেষ হয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছেন, কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই প্রায় আড়াই লাখ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রোহ খানা জানান, বিচার বিভাগ ছয় মিলিয়নের বেশি পৃষ্ঠা শনাক্ত করলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন পৃষ্ঠা প্রকাশ করেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।




